• একজনের কাজ সংগ্রহ, আরেকজনের পাচার! বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারে গ্রেপ্তার বনগাঁর দুই দুষ্কৃতী
    প্রতিদিন | ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে পালানোর আগেই এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার পাকচর রানা রউফ। এই খবর সামনে আসতেই সীমান্ত শহর বনগাঁয় নিরাপত্তা আরও আঁটোসাটো করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চালানো হচ্ছে তল্লাশি। সেই অভিযান চলাকালীনই দুই অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। ধৃত দুজনের নাম শহিদুল মণ্ডল এবং অনুপ খান। জানা গিয়েছে, ধৃতদের বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের ছক ছিল। তার আগেই পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে যায়। তবে কি কারণে সীমান্তের ওপারে অস্ত্র পাচারের ছক ছিল ধৃত দুজনের, তা স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, শহিদুল মণ্ডল বাড়ি বনগাঁ থানার বাজিতলা এলাকায় এবং অনুপ খানের বাড়ি ফুলতলা কলম এলাকায়। বুধবার গভীর রাতে ধৃতদের আটক করে তল্লাশি চালায়। ধৃতদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়। এরপরই শহিদুল মণ্ডল এবং অনুপ খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত দুজনকে জেরায় পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, ধৃত শহিদুল অস্ত্র আমদানি করে গোপন জায়গায় মজুত করে রাখত৷ ধৃত অনুপ বাংলাদেশ-সহ একাধিক এলাকার দুষ্কৃতীদের কাছে তা বিক্রি করতো। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এর আগেও অনুপ বাংলাদেশে অস্ত্র বিক্রির অভিযোগে ৫ বার পেট্রাপোল থানা, বনগাঁ থানা এবং বিএসএফের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন৷ কিন্তু ছাড়া পেতেই ফের এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। সম্প্রতি অনুপ এক বাংলাদেশি দুষ্কৃতীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন বলে খবর পায় পুলিশ। সূত্র মারফত সেই খবর পেয়েই তল্লাশি শুরু করেন। সেই সময়েই শহিদুল এবং অনুপকে একেবারে হাতেনাতে ধরা হয়।

    সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অনুপ ও তার বাবা তুষার খানের পেট্রাপোল বন্দরে একটি দোকান রয়েছে৷ সেখানে বসেই তুষার খান ব্যবসার আড়ালে নেশার দ্রব্য বিক্রি-সহ একাধিক অসাধু কারবার চালাতো বলে অভিযোগ৷ আর সেই দোকানে বসেই অস্ত্রের কারবার চলত বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তবে অসাধু কাজ চালানোর অভিযোগে আগেই তাপস খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকদের কথায়, ধৃত অনুপ এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্তরা বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে ব্যবহার করে কথোপকথন চালাত। এরপর ডিল ফাইনাল হলে সীমান্তের ওপার থেকে কোনও এক ব্যক্তির হাত ধরে চলে আসত টাকা। একইভাবে সীমান্তের এপার থেকে কারোর হাত ধরে অস্ত্র পৌঁছে যেত ওপারে। আর তা সবটাই নিরাপত্তার নজর এড়িয়ে চলত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন বলে খবর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)