নীলরতন সরকার হাসপাতালে নার্সের রহস্যমৃত্যু। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাসিখুশি মেয়েটার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর বিধানসভার সাউথখণ্ড গ্রাম। মেয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হোক– চাইছেন রুপালি বর্মনের বাবা অর্জুনচন্দ্র বর্মন।
কৃষক পরিবারের মেয়ে রুপালির পড়াশোনার প্রতি ছোট থেকেই আগ্রহ ছিল। অভাবের পরিবারেও মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে প্রাণপাত করেছেন মা-বাবা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন রুপালি। সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার পরেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক ঘটনা।
রুপালির বাবা অর্জুনচন্দ্র বর্মন জানান, বুধবার রাতে হঠাৎ তাঁর জামাই ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেন। খবর পাওয়ার পর থেকেই গোটা পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে। কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা পরিবারের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের দাবি, রুপালির স্বভাব অত্যন্ত ভালো ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অভিযোগ বা খারাপ আচরণের কথা তাঁরা কখনও শোনেননি। তাই এই মৃত্যুর নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল, তা জানতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রুপালির পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ঘটনার সঠিক তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। রুপালির বাবা বলেন, ‘আমরা জানতে চাই মেয়ের মৃত্যু কী ভাবে হয়েছে। সঠিক তদন্ত করে দেখা হোক। আমরা সঠিক বিচার চাই।’
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে নীলরতন সরকার হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-তে কর্মরত ছিলেন রুপালি। রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ের দিকে যান বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে শৌচালয়ের দরজা ভেঙে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।