• ২০ বিরোধী সাংসদের পদ খারিজের দাবি, এবার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল
    আজ তক | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • এবার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওই সাংসদদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে শীর্ষ আদালতে আবেদন করতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

    বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অযোগ্যতার আবেদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতরের টানাপোড়েন চলছে। সূত্রের দাবি, স্পিকারের সিদ্ধান্তের জন্য আর অপেক্ষা করতে চাইছে না তৃণমূল। মমতা-শিবির মনে করছে, তারা এখনই সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে অনেকটা দেরি হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদের আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

    ওই ২০ বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বুধবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ইউসুফ পাঠানদের নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্পিকারকে আবেদন জানান তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্পিকার সিদ্ধান্ত না নিলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

    তৃণমূল সূত্রে আরও দাবি, দলটি দলত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে কোমর বেঁধে নামছে। তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়সীমা এবং এই ধরনের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন নির্দেশের কথাও তুলে ধরবেন তাঁরা।

    কী বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

    সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের অভিষেক বলেছিলেন, জুন মাসেই তিনি স্পিকারের কাছে বিষয়টি তুলেছিলেন। সেই সময় ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি।

    অভিষেকের কথায়,'জুন মাসে আমি স্পিকারের কাছে এই বিষয়টি তুলেছিলাম। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন করা হয়েছিল। প্রায় দু’মাস কেটে গিয়েছে, কিন্তু এখনও কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাইনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ধরনের আবেদন নিষ্পত্তি করা উচিত।' তারপরই তিনি জানিয়েছিলেন, এবার তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন। 

    কেন তৃণমূল ছাড়লেন ২০ সাংসদ?

    তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন দলের পরিচিত মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিকের মতো নেতা-নেত্রী। বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাঁরা লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। সেই যুক্তিতে তাঁরা নিজেদের দলবদলকে বৈধ বলে দাবি করছেন। একইসঙ্গে লোকসভায় পৃথকভাবে বসার ব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন NDA-র সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নেওয়ার উদ্যোগও শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী সাংসদরা ইতিমধ্যেই NDA-র বৈঠকেও যোগ দিয়েছেন। যদিও লোকসভার সরকারি নথিতে এখনও তাঁদের তৃণমূল সাংসদ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।

    তৃণমূল অবশ্য এই দলবদলের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের যুক্তি, অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে ওই সাংসদরা স্বেচ্ছায় তৃণমূলের সদস্যপদ ছেড়েছেন। ফলে তাঁদের দাবি করা NCPI-তে সংযুক্তি দলত্যাগ-বিরোধী আইনের সুরক্ষা পেতে পারে না।
     

     
  • Link to this news (আজ তক)