বাংলাদেশে অস্ত্র পাচার করার জের, দুই ব্যবসায়ীকে বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৪ আগস্ট ২০২৬
এবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হলো দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী। এই দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী কাঁটাতার পেরিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। ধৃত ব্যবসায়ীরা ছাড়া এই অস্ত্র কারবারের চক্রে আর কারা জড়িত সেটার অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই হামিম মণ্ডলের মতো জঙ্গি ধরা পড়েছে। তার উপর পাকিস্তানের নাগরিক যে গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে জড়িত সেও ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। তাই এই অস্ত্র পাচারের ঘটনাকে ছোট করে দেখছে না পুলিশ।
মাঝে আর একটা দিন। তারপরই স্বাধীনতা দিবসে মেতে উঠবে গোটা দেশ। রাজ্যেও এবার তা আরও ধুমধাম করে পালিত হবে। কারণ নতুন সরকার এসেছে পশ্চিমবঙ্গে। সুতরাং কোনওরকম খারাপ ঘটনা ঘটুক তা চাইছে না নতুন বিজেপি সরকার। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহলদারিও। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ফাঁক রাখা হচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে খবর, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে অস্ত্রপাচারের অভিযোগ যাতে না আসে তা নিয়ে সতর্ক পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অস্ত্র কারবারিদের ডেরায় বৃহস্পতিবার হানা দেয় বনগাঁ থানার পুলিশ। সেখান থেকে শহিদুল মণ্ডল এবং অনুপ খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হয় অস্ত্রশস্ত্র, কার্তুজ। শহিদুলের বাড়ি বনগাঁ থানার বাজিতলা এলাকায়। আর ফুলতলা কলম এলাকায় বাড়ি অনুপের।
শহিদুলদের ডেরায় হানা দিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে ৯ এমএম পিস্তল এবং দু’টি ম্যাগাজিন। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে শহিদুল অস্ত্র আমদানি করে গোপন আস্তানায় নিয়ে গিয়ে মজুত করত। আর অনুপের দায়িত্ব ছিল সেটা পাচার করা। বাংলাদেশ-সহ নানা জায়গায় দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছে যেত এইসব অস্ত্রশস্ত্র। বিনিময়ে মিলত মোটা টাকা। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশি এক দুষ্কৃতীকে অস্ত্র বিক্রি করেছিল অনুপ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সব মামলার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলে। ধৃতদের ম্যারাথন জেরা করেছে পুলিশ। এই দুই অস্ত্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে জঙ্গি যোগ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে আরও জেরা করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ। এখন দেখার আর কোন তথ্য বেরিয়ে আসে এই দুই অস্ত্র কারবারিদের কাছ থেকে।