গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে অন্তরাল থেকেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal)। এবার সেই মামলা থেকে হাত তুলে নিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। তিনি জানিয়েছেন, একই ব্যক্তি কোর্টের অন্য বেঞ্চেও মামলা করেছেন। সব আবেদনের শুনানি একই বেঞ্চে হওয়া উচিত বলে দাবি করেন বিচারপতি। টুলুর মামলা আপাতত বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।
মামলার সূত্রপাত ডেউচায় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায়। পুলিশি তদন্তে ওই ঘটনায় উঠে আসে টুলু মণ্ডলের নাম। এরপর তদন্তের জাল ছড়িয়ে পড়ে একাধিক জায়গায়। টুলুর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা প্রায় ২০টি জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। অন্তরালে থেকেই টুলু মণ্ডল রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে রক্ষাকবচের আবেদন জানান টুলু। তারপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন এবং বৃহস্পতিবার বিচারপতি চন্দের বেঞ্চে সেই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। কিন্তু অন্য বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপতি চন্দ মামলাটি ছেড়ে দিয়েছেন। এই বেঞ্চে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদ্ধতিকেও চ্যালেঞ্জ করেছিলেন টুলু। তবে তাতেও লাভ হল না।
অন্যদিকে, আদালতের ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারি এড়াতে আত্মগোপন করেছেন বা নিজেকে লুকিয়ে রেখেছেন বলে আদালতের কাছে জানানো হয়েছে। সেই কারণেই এবার প্রকাশ্যে তাঁর নামে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ জানানো হল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় এসিজেএম আদালতে হাজির হতে হবে টুলুকে। আদালতের নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ, অপরাধের প্রমাণ নষ্ট বা লোপাট, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। ১০ আগস্ট জারি হওয়া ওই ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে হবে তাঁকে।
প্রসঙ্গত, টুলুর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা প্রায় ২০টি জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং মামলায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ছ’জনের বয়ানকে সামনে রেখে তদন্তকারীরা গোটা ঘটনাকে টুলু মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন একটি ‘সিন্ডিকেট ক্রাইম’ বলে আদালতে দাবি করেছেন। সরকারি পক্ষও আদালতে একই ধরনের অভিযোগের কথা জানিয়েছে। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়, গ্রেপ্তার এড়াতে টুলু দেশ ছেড়ে বিদেশে আত্মগোপন করেছেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে বিচারাধীন। এই অবস্থায় মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় টুলুর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আবেদন করেছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার থেকে প্রকাশ্যে নোটিস সাটানো ও প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। টুলুর নামে থাকা বাড়ি, সম্ভাব্য আস্তানা এবং পরিচিত এলাকাগুলিতে আদালতের নির্দেশ প্রচার করা হচ্ছে। মহম্মদবাজারের পাথর খাদান এলাকাতেও পুলিশের তরফে প্রচার চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।