• মধ্যরাতে ইস্তফা ভাইস চেয়ারম্যানের, আরও সংকটে সৈকত, জলপাইগুড়িতে লাটে নাগরিক পরিষেবা
    বর্তমান | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি পুরসভায় রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। যার জেরে লাটে উঠেছে নাগরিক পরিষেবা।

    দুই কাউন্সিলার আগেই ইস্তফা দিয়েছিলেন। এবার পদ ছাড়লেন ভাইস চেয়ারম্যান দীনেশ রাউত। গতকাল মধ্যরাতে জলপাইগুড়ি সদরের মহকুমা শাসক মঈন আহমেদের কাছে ইস্তফাপত্র তুলে দেন তিনি। যার ফলে অনাস্থা আবহে চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের সংকট আরও বাড়ল বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

    আগামীকাল চেয়ারম্যানের অনাস্থা বৈঠক ডাকার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান বৈঠক না ডাকলে অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে বৈঠক ডাকতে পারেন ভাইস চেয়ারম্যান। কিন্তু তার আগেই দীনেশ রাউত ইস্তফা দেওয়ায় আরও বিপাকে পড়ে গেলেন সৈকত।

    জলপাইগুড়ি পুরসভায় ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অন্যান্য কাজকর্মে অস্বচ্ছতার অভিযোগে বিদ্ধ বর্তমান পুরবোর্ড। মহকুমাশাসকের নির্দেশে যার তদন্ত করছে পুলিশ। কোনো গরমিল পাওয়া গেলে মামলা রুজু করা হবে বলে জানানো হয়েছে তদন্তকারীদের তরফে। তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে সরকারি নানা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে স্পেশাল অডিটের দাবিতে মহকুমা শাসককে চিঠি দিয়েছে বিজেপি।

    এই আবহে চেয়ারম্যানের উপরে অনাস্থা জানিয়ে দ্রুত ভোটাভুটি দাবি করে এসডিও-র দ্বারস্থ হয়েছেন একদা সৈকত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলাররা। অথচ গত ১২ দিন ধরে পুরসভায় আসছেন না চেয়ারম্যান। ফলে ভেঙে পড়েছে নাগরিক পরিষেবা।

    জলপাইগুড়ি পুরসভায় মোট কাউন্সিলার ২৫ জন। এর মধ্যে তৃণমূলের কাউন্সিলার ছিলেন ২২ জন। দু’জন ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। বাকি ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন চেয়ারম্যানের বিরোধী শিবিরে। কংগ্রেসের ২ জন এবং সিপিএমের একজন কাউন্সিলার অনাস্থা বৈঠকে গরহাজির থাকতে পারেন।
  • Link to this news (বর্তমান)