মুখ্যমন্ত্রীর ‘কেশপুর ফাইল’ খোলার নির্দেশের পর গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা
বর্তমান | ১৪ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনীতে দাঁড়িয়ে ‘কেশপুর ফাইলস’ খোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেশপুরে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন যুব নেতা আশিফ ইকবাল ওরফে টয়। মঙ্গলবার রাতে কেশপুর ও মেদিনীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি কেশপুর ব্লকের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ ছাড়াও ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। তোলাবাজি, ভয় দেখানো-সহ একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বুধবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছিল। একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় সহ নানা অভিযোগ পুলিশের কাছে জমা পড়েছিল। সেইসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে তদন্তে নামে কেশপুর থানার পুলিশ।
পুলিশের তদন্তকারী দল কেশপুর ও মেদিনীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে টয়কে পাকড়াও করে। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযোগের ধরণ এবং প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, অভিযুক্তকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। মেদিনীপুর আদালতের আইনজীবী মন্মথ দে’ও জানান, একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে টয়ের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই কেশপুরে টয়ের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছিল। তাঁকে ঘিরে এলাকায় একাধিক অভিযোগ উঠলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। জেলার প্রাক্তন এক পুলিশের আধিকারিকের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে টয় নিরাপত্তা পেতেন বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি। ফলে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ভয়ে অনেকেই পুলিশের কাছে যেতে চাইতেন না বলে অভিযোগ।
এরই মধ্যে টয়ের বিরুদ্ধে কেশপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক অভিযোগ আসতে শুরু করে। বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষের পদকে কাজে লাগিয়ে তিনি নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। এমনকী, জাল লটারির কারবারের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে, এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও পুলিশের তদন্তসাপেক্ষ। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, ‘টয় সব সময় নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরতেন। তার বিরুদ্ধে কেউ জোর গলায় কথা বলার সাহস পেতেন না। পুলিশের এই পদক্ষেপে কেশপুরের সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।
এদিন পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে টয়কে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে টাকা লেনদেন, অভিযোগকারীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে ওঠা অভিযোগগুলির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তে দেখা হচ্ছে।