তৃণমূল আমলে জারি সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করল হাইকোর্ট
বর্তমান | ১৪ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় নতুন করে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রই বাতিল করে দিল হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বলে এখন আর কিছু নেই। ফলে ওই তালিকাভুক্ত সমস্ত শংসাপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে পূর্বতন জমানায় ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি চিহ্নিত সম্প্রদায় এখন থেকে শুধু ‘সাধারণ শ্রেণি’ বা ‘জেনারেল কাস্ট’ বিবেচিত হবে।
২০১০ সালের পর রাজ্যের ওবিসি সম্প্রদায়কে ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি তালিকাভুক্ত করা হয়। তা নিয়ে পরবর্তীকালে মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট ৬৬টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, মাইনরিটি কমিশনের সুপারিশক্রমে সমীক্ষার মাধ্যমে নতুন তালিকা তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল সরকার। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।
এরপর ২০২৫ সালে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নতুনভাবে সমীক্ষা করে ওবিসি ‘এ’ এবং ‘বি’ তালিকায় কিছু বদল করে তৃণমূল সরকার। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, মাত্র আড়াই হাজার নমুনা সমীক্ষার ভিত্তিতেই নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মোট ১৪২টি জনগোষ্ঠীকে নতুনভাবে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তাতে আপত্তি জানায় হাইকোর্ট। ফলে ফের জল গড়ায় শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। ফলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওবিসি শংসাপত্র ইস্যুর কাজ চলছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বলা হয়, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য একটিই সংরক্ষণ রাখা হবে। তৃণমূল সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা হয়েছিল, তাও তুলে নেওয়া হয়। সেই কারণেই বিচারপতি মান্থার বেঞ্চ বুধবার ওবিসি ‘এ’ এবং ‘বি’ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে।