• চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ডিলিমিটেশনে ধোঁয়াশা!
    বর্তমান | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতিমূলক খসড়া (প্রিপারেটরি ড্রাফট) দেখার শেষ সুযোগ আজ, বৃহস্পতিবার। কাল থেকে তা আর জনসমক্ষে থাকবে না। বুধবার কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে বিধানসভায়। রাজ্যপালের স্বাক্ষর হলেই আইন সংশোধনের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। এরপর গেজেট নোটিফিকেশন দিয়ে ২০৯টি ওয়ার্ডের চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। সেই খসড়ার উপর নাগরিক, রাজনৈতিক দলের মতামত চাওয়া হবে আরও একবার। তবে পুর প্রশাসন সূত্রে খবর, কোন ওয়ার্ড বদলে কত নম্বর হল, কোন ওয়ার্ডে কত ভোটার থাকছে, কোন ওয়ার্ডে ক’টি পার্ট বা বুথ, সেটি কোন বিধানসভার মধ্যে পড়ছে—এসব প্রশ্নের জবাব সেই চূড়ান্ত খসড়া তালিকায়ও থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে পুনর্বিন্যাসের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হাওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। 

    বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক খসড়ার ভিত্তিতে শহরবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের বক্তব্য বা প্রস্তাব জানাতে বলা হয়েছিল। তার জন্যই বুধবার পুরসভায় এসেছিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে বিধায়ক কুণাল ঘোষ, প্রাক্তন মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান রত্না শূর। তাঁরা পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডের সঙ্গে দেখা করে ডিমিলিটেশন নিয়ে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এনিয়ে সর্বদল বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, কলকাতার সব বিধায়কের মতামত শোনার প্রয়োজন ছিল। জনগণনা না করে কীভাবে ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে, তাও জানতে চান কুণালবাবুরা। এনিয়ে তাঁরা পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব খলিল আহমেদকেও চিঠি পাঠাচ্ছেন। 

    এদিকে, আজ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করবে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। ইতিমধ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে কংগ্রেসের তরফেও প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’জন নাগরিক ডিমিলিটেশন নিয়ে নিজের ওয়ার্ড সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।

    আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ২০৯টি ওয়ার্ডের সীমানা উল্লেখ করে নয়া খসড়া প্রকাশিত হবে। ডিলিমিটেশনের পর কোন ওয়ার্ড কত নম্বর ওয়ার্ড হল বা কার সঙ্গে যুক্ত হল, তা চূড়ান্ত খসড়ায় থাকবে কি না, স্পষ্ট নয়। কারণ, পুর-আইনে ‘শিডিউল ২’ যেভাবে সাজানো রয়েছে, ঠিক সেভাবে খসড়া প্রকাশ করতে হবে। সেখানে এরকম কোনো আইনি সংস্থান নেই। তবে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সীমানা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। আবারও সাতদিনের জন্য নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের মতামত জানানোর সুযোগ পাবে। সর্বদল বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। সব মিটে গেলে হবে চূড়ান্ত নোটিফিকেশন। 
  • Link to this news (বর্তমান)