• তোলাবাজির ছবি ভাইরাল, সাসপেন্ড বিজেপি নেত্রী
    বর্তমান | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলো-আঁধারিতে ভাইরাল একটি ভিডিয়ো (সত্যতা ‘বর্তমান’ যাচাই করেনি)। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি আর এক মহিলাকে টাকা দিচ্ছেন। বলছেন, ‘এটা আপনার টাকা। পুরোটা আপনার। কত হল... আশি?’ ওই ভিডিয়োতে যিনি টাকা দিচ্ছেন, তিনি মুকুন্দপুর এলাকার এক প্রোমোটার। আর টাকা নিচ্ছেন বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার মহিলা সম্পাদক মৌসুমি দাস। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এটা কি তোলাবাজির টাকা? সেই ‘তোলাবাজি’র ট্র্যাডিশন কি আজও চলছে? সূত্রের খবর, অভিযোগ জমা পড়েছিল রাজ্য বিজেপির কাছে। তারপরই সাসপেন্ড করা হয়েছে ওই বিজেপি নেত্রীকে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে দল।

    বিজেপি নেত্রীকে ফোন করা হলে তিনি নিরুত্তর থেকেছেন। তবে বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোয়ারদার একথা শুনেই বললেন, ‘অভিযোগ আগেই জমা পড়েছিল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত করে দেখছি, আসল ঘটনা ঠিক কী? কীসের জন্য এই টাকার লেনদেন, আমরা খতিয়ে দেখছি। ওই নেত্রীকে শো-কজ করা হয়েছে। উনি তার জবাব দেবেন। আমরাও দেখব, কী উত্তর দেন। আপাতত ওই নেত্রীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’ যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক ছিলেন তিনি। অর্থাত্ মনোরঞ্জনবাবুর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানানোর ভিডিয়োতেও ওই নেত্রী রয়েছেন। দল ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার ‘তোলাবাজি’র বিরুদ্ধে কথা বলছেন। কিন্তু পাড়ায়, মহল্লায় ‘তোলাবাজি’ চলছেই। মুকুন্দপুর এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই ‘তোলাবাজি’ শুরু হয়েছে। থামার কোনো লক্ষণই নেই। কেন আটকানো যাচ্ছে না? মনোরঞ্জনবাবু বলছিলেন, ‘কেন আটকানো যাচ্ছে না, সেটা তো সমাজবিদ্যার বিষয়। তবে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। তারপরও এই সমস্যা চলছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতে পেলেই এরকম প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বন্ধ করার জন্য আমাদের চেষ্টা তো মানুষ দেখতেই পাচ্ছেন। এক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’     

    বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, সেই প্রোমোটারকে বুধবার দুপুরের দিকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো অভিযোগ নেই।’ তিনি তাঁর নাম প্রকাশ্যে আনতেও অনিচ্ছুক। তাহলে অভিযোগ কে করল? ওই ভিডিয়োতে কি তিনি টাকা দিচ্ছেন না? প্রোমোটার বলছেন, ‘আমাদের পাড়ার মধ্যের ব্যাপার। আমরা সকলে একসঙ্গে থাকি। এসবের কী দরকার?’ ভিডিয়োর বিষয়ে তাঁর আরও সংযোজন, ‘আমি ওই ভিডিয়ো করিনি। কাউকে পাঠাইনি। কে ওই ভিডিয়ো করে ছড়িয়েছে, আমি জানি না।’ 

    রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সুর চড়ানো হয়েছে। আম জনতা কিন্তু বলছে, পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। 
  • Link to this news (বর্তমান)