• এনআরএসের শৌচালয় থেকে নার্সের দেহ উদ্ধার, ঘটনাস্থলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
    বর্তমান | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • কলকাতা, ১৩ আগস্ট: কর্তব্যরত এক নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে। মৃতার নাম রূপালী বর্মন। গতকাল, বুধবার রাতে হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের শৌচালয় থেকে তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।এদিকে, খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। কলকাতা পুলিশের পদস্থ কর্তারাও ঘটনাস্থলে এসেছেন।

    জানা গিয়েছে, বছর ৩০ বয়সি রূপালী বর্মন আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। সম্প্রতি স্টাফ নার্স হিসেবে এনআরএস হাসপাতালে বদলি হয়ে আসেন। থাকতেন দমদমের এক বাড়িতে। গতকাল নাইট ডিউটিতে ছিলেন তিনি। রাত ১০টা নাগাদ ডিউটি টেবিল থেকে শৌচালয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও না ফেরায় শুর হয় খোঁজ। শৌচালয় বন্ধ দেখে দরজায় ধাক্কা দেন উপস্থিত সহকর্মীরা। কিন্তু কোনো সাড়া না মেলায় কর্তৃপক্ষের তরফে খবর দেওয়া হয় এন্টালি থানায়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে রূপালীদেবীকে উদ্ধার করে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।

    পুলিশ সূত্রে খবর, নার্স রুপালি বর্মণের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানার সাউথখণ্ড গ্রামে। তাঁর বাবা অর্জুন বর্মণ পেশায় মৎস্যজীবী। মৃতার বাড়িতে বাবা-মা ছাড়াও তাঁর দুই দাদা রয়েছে। স্থানীয় বাগমারি গালর্স হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও টিকরাপাড়া হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বিএসসি নার্সিং কোর্স সম্পূর্ণ করেন রুপালি। এনআরএস হাসপাতালে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর আসতেই তাঁর দুই দাদা রওনা দিয়েছেন। রুপালির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সাউথখণ্ড ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। গ্রামের মেয়ে কীভাবে মারা গেল তা নিয়ে যথাযথ তদন্তের দাবিও তুলছেন স্থানীয়রা।
  • Link to this news (বর্তমান)