• বাংলাদেশে ফের রেক রপ্তানির পথে ভারত, সম্পর্কে আরও উন্নতির ইঙ্গিত?
    এই সময় | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: বাংলাদেশে ফের রেক রপ্তানি করতে চলেছে ভারত। কাপুরথলার রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) বাংলাদেশ রেলের জন্য ১৯টি যাত্রিবাহী কোচের একটি রেক তৈরি করে তা হস্তান্তর করবে বলে রেল মন্ত্রক জানিয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই রেকে রয়েছে তিনটি এসি স্লিপার কার, তিনটি এসি চেয়ার কার, ১১টি নন-এসি চেয়ার কার এবং দুটি পাওয়ার কার। রেলের ক্ষেত্রে এই সহযোগিতার হাত ধরে দু’দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ২০১৫-’১৬ আর্থিক বছরে বাংলাদেশকে ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রিবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল ভারত। ২০২৪ সালে রাইটস–এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেল ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রিবাহী কোচ তৈরির বরাত দেয় ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরিকে। তখনও শেখ হাসিনা ক্ষমতায়। সে বছরের অগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পরে মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। এতটাই যে, রেলের ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতার তখন কোনও সুযোগই ছিল না। বাংলাদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে তারেক রহমান নির্বাচিত হওয়ার পরে দু’দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে জোড়া লাগতে শুরু করেছে। তার পরেই সামনে এল বাংলাদেশে ভারতের ফের রেক রপ্তানির সিদ্ধান্তের বিষয়টি।

    বাংলাদেশ রেলের জন্য ১৯টি বিশেষ ভাবে তৈরি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রিবাহী কোচের রেকটি তৈরি করা হয়েছে সে দেশের রেলপথের পরিচালনগত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এসি চেয়ার কারগুলিতে রয়েছে বিশেষ নকশায় তৈরি এমন চেয়ার, যাতে হেলান দেওয়া যায়। স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার জায়গা থাকা এই আসনগুলিতে একাধিক অবস্থানে হেলান দেওয়ার সুবিধে রয়েছে। এসি কোচগুলিতেও রাখা হয়েছে ফ্যানের ব্যবস্থা।

    তবে এই ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য গোটা রেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা ও প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম রাখার বন্দোবস্ত। যাত্রীদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আংশিক ভাবে খোলা যায় এমন জানলা, শিশুদের পরিচর্যার জন্য আলাদা বেবি কেয়ার রুম এবং প্রার্থনার জন্য প্রেয়ার রুমও তৈরি করা হয়েছে। এলএইচবি কোচে এ ধরনের কিছু বৈশিষ্ট্য প্রথম বার যুক্ত হলো বলে ভারতীয় রেল মন্ত্রকের দাবি।

    রেলের রোলিং স্টক বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে ভিড়ের সময়ে যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে উঠে পড়ার প্রবণতার কথা চিন্তা করে কোচগুলির ছাদ বিশেষ ভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে। তা ছাড়া, দুর্ঘটনা ঘটলে সংঘর্ষের অভিঘাত কমিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে রেকের নকশায়। ইউরোপীয় মান ইএন ১৫২২৭ অনুযায়ী ‘ক্র্যাশওয়ার্দি’ অর্থাৎ সংঘর্ষ–সহনশীল বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রেল জানাচ্ছে, এর মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রেল কোচ নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রটি আরও শক্তিশালী হবে। ভারতীয় রেলের বক্তব্য, বাংলাদেশের যাত্রিবাহী ট্রেনের পরিষেবায় দীর্ঘপথের যাত্রা, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ভিড়ের মতো বিষয়গুলি বিবেচনা করে কোচগুলির বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয়েছে। এই রৈক তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি, যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য ও পরিচালনায় স্থানীয় বাস্তব পরিস্থিতির সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে বলে ভারতীয় রেল জানিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)