এই সময়: তৃণমূল জমানায় সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে ডাক পেতেন না বিরোধীরা। যা নিয়ে অতীতে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে শুভেন্দু পুরোনো সংস্কৃতি বদলের পথে হেঁটেছেন। প্রশাসনিক সভাগুলিতে শুভেন্দুর সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিরোধী দলের সাংসদ, বিধায়কদের। সেই রীতি বজায় রেখেই আগামী ১৫ অগস্ট, স্বাধীনতা দিবসে কলকাতায় রেড রোডের অনুষ্ঠানেও তিনি বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু রেড রোডে নয়, জেলাগুলিতেও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে সব দলের জনপ্রতিনিধিদের। সেখানে শাসক–বিরোধী বাছবিচার করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ম করে জেলায় ঘুরে প্রশাসনিক বৈঠক করতেন। কিন্তু কোনও জেলায় বিজেপির সাংসদ–বিধায়ক থাকলেও তাঁদের ডাকা হতো না বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল জমানায়। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান কেন রং দেখে জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে ডাকছেন, তা নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছে বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। তাতে পূর্বতন শাসকদল কর্ণপাত করেনি বলেই বিজেপির অভিযোগ। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘বিজেপি সরকার কতটা গণতান্ত্রিক, তা শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হোক, অথবা অন্য কোনও সরকারি অনুষ্ঠান— কোথাও বিরোধী নেতা হিসেবে ডাক পাননি শুভেন্দু। কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছেন না। গত তিন মাসে যতগুলি প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে, সব জায়গায় বিরোধী সাংসদ–বিধায়কদের ডাকা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন রেড রোডেও সেই পরম্পরা অটুট থাকবে।’
মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এ প্রসঙ্গে বুধবার বিধানসভায় বলেছিলেন, ‘রেড রোডের কর্মসূচিতে আমরা আগে ডাক পেতাম না। বিরোধী দলনেতাকেও ডাকা হতো না। এ বার সবাইকে ডাকা হবে। চিঠি পৌঁছে যাবে। সব জেলার জেলাশাসক, মহকুমা শাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব নির্বাচিত সাংসদ, বিধায়ককে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মানের সঙ্গে ডাকতে হবে।’ যদিও কালীঘাট–তৃণমূলের এক মুখপাত্রের কথায়, ‘বোঝাই যাচ্ছে, স্বাধীনতা দিবসের দিন রেড রোডের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশের চেয়ারে হাসিমুখে বিদ্রোহী তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়ক বসে থাকবেন। কিন্তু তাঁরা তো বিরোধী নন। বিজেপির বি–টিম। জেলাগুলিতেও এক দৃশ্য দেখা যাবে। সব নাটক।’ এ দিকে, রাজ্য সরকারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।