Bছোট থেকে ক্যারাটে শিখত। স্বপ্ন ছিল পাক সেনায় যোগ দেওয়ার। কিন্তু সেটা হয়নি। তাই শেষে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই–এর চর হয়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়েছে রানা রউফ খালিদ। মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার চোঙ্গদা থেকে আইএসআই চর সন্দেহে ধৃত রানাকে জেরা করে এ কথাই জানা গিয়েছে বলে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সূত্রের দাবি।
চোঙ্গদা থেকে রউফ এবং কলকাতার তপসিয়া থেকে তার শাগরেদ ইজাজকে গ্রেপ্তারের পরে এসটিএফের হাতে নতুন কিছু তথ্য এসেছে। জানা গিয়েছে, শারীরিক সমস্যার জন্য পাক সেনায় যোগ দিতে পারেনি রানা। কাজ শুরু করে আইএসআই-এর চর হিসেবে। সূত্রের খবর, জেরায় সে জানিয়েছে যে, বরাবরই নিজের দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ তার মধ্যে ছিল। তাই গুপ্তচর হিসেবে কাজ করার ঝুঁকি নিয়েছে।
জানা গিয়েছে, রানার থেকে বাজেয়াপ্ত মোবাইলে মুছে ফেলা চ্যাট উদ্ধারের জন্য ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। রানার নোটবই থেকে পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার যে ফোন নম্বরগুলি মিলেছে, সেগুলি ট্রেস করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই জনাছয়েক এসেছে তদন্তকারীদের রেডারে। এর মধ্যে পাঁচ জন রয়েছে নেপালে, এক জন বাংলাদেশে। এই ছ’জন হলো কাসিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহেল, জেডি, হারুন সফদার এবং পাভেল। এদের সঙ্গে রানার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার সেনাছাউনি, বিএসএফ ছাউনি, রেল স্টেশন, রেলওয়ে ট্র্যাকের ছবি, ভিডিয়ো এবং ম্যাপ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নেপালের পাঁচ শাগরেদকে পাঠাত রানা। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম, ব্যারাকপুরের সেনাছাউনি রেইকি করে গিয়েছিল সে। এ সব জায়গায় ছবি-ভিডিয়ো তুলে সে পাকিস্তানে পাঠিয়েছে বলে সন্দেহ। রানাকে এ সব কাজে সাহায্য করত ইজাজ। দু’জনের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে আরও কয়েক জনের খোঁজ চরছে এসটিএফ।
কলকাতায় যে বারছয়েক রানা এসেছিল, তার মধ্যে অন্তত দু’বার সে তপসিয়ায় ছিল। বাকি সফরে দক্ষিণেশ্বরের মতো কলকাতা লাগোয়া এলাকায় ডেরা বাঁধত বলে জানা গিয়েছে। ভুয়ো আধার ও ভোটার কার্ড ব্যবহার করে কলকাতা থেকেই একাধিক সিম কার্ড তোলে সে। সেগুলি দিয়েই নিজের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এ দিকে ‘সার’-এ নাম বাদ পড়ায় এবং সীমান্তে নিরাপত্তার কড়াকড়ি হওয়ায় এ যাত্রায় ভারতে ঢুকেও বাংলাদেশে পালাতে তৎপর হয়েছিল রানা। তদন্তকারীরা জেনেছেন, সীমান্তের ও পারে তার জন্য অপেক্ষা করার কথা ছিল পাভেলের। বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পরে পাভেল তাকে একটি নতুন সিম কার্ড দেবে বলে ঠিক ছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পালানোর ছক ছিল রানার।