• স্বাধীনতা সংগ্রামীর পেনশন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন হরেকৃষ্ণ
    এই সময় | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • মহম্মদ মহসিন, বাগনান

    বাগনানের মানুষ তাঁকে চেনেন হরেকেষ্ট মাস্টার নামে। দেশ স্বাধীন করতে কিশোর বয়সেই নাম লিখিয়েছিলেন বিপ্লবী দলে। ছিলেন যুগান্তর দলের সদস্য। বিপ্লবীদের হয়ে টাকা জোগা়ড করতে ডাকাতিও করেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে চাইলে নেতা–মন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু তিনি সে সব ছেড়ে শিক্ষকতার জীবন বেছে নেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে তাঁর যে পেনশন পাওয়ার কথা ছিল, সেটাকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। হাওড়ার বাগনান হিজলোক গ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামী হরেকৃষ্ণ দাস এক ব্যতিক্রমী চরিত্র।

    হরেকৃষ্ণ প্রয়াত হন ১৯৭২-এ। তাঁর স্ত্রী অনেক আগেই মারা যান। হরেকৃষ্ণকে আজও ভুলতে পারেননি বাগনানের মানুষ। পুরোনো স্মৃতি আউড়ে তাঁর দৌহিত্র সুরজিৎ দাস জানালেন, হরেকৃষ্ণ বাগনান হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন। তখন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রয়াত অতুলচন্দ্র সেন। তিনিও ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর দ্বারা অনেকটাই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন হরেকৃষ্ণ। বিপ্লবী যতীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়েরও (বাঘাযতীন) সান্নিধ্যলাভ করেছিলেন হরেকৃষ্ণ। একবার বাঘাযতীন কিছুদিন বাগনানে আত্মগোপন করেছিলেন। তখন বাগনান মহিষরেখা ব্রিজের কাছে ট্রেন থামত।

    হরেকৃষ্ণ–সহ বাগনান হাইস্কুলের পাঁচ ছাত্র বাঘাযতীনকে সাইকেলে চাপিয়ে মহিষরেখা থেকে বাগনান হাইস্কুলে এনেছিলেন। ফেরার সময়ে বাঘাযতীনকে বর সাজিয়ে পালকিতে করে মহিষরেখা স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। হরেকৃষ্ণ হয়েছিলেন পালকির অন্যতম বাহক। মেটিয়াবুরুজে জাহাজ থেকে অস্ত্র লুট করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান হরেকৃষ্ণ। তার জন্য হিজলি জেলে প্রায় ছ'মাস বন্দি ছিলেন। শ্যামপুরের ডিহিমন্ডল ঘাটে স্থানীয় এক জমিদারের বাড়িতে ডাকাতি করতেও গিয়েছিলেন। ডাকাতি করার আগে হরেকৃষ্ণ বাউল সেজে সেই বাড়িতে বেশ কয়েক দিন কাটিয়েওছিলেন।

    সুরজিৎ জানিয়েছেন, তাঁদের মাটির বাড়িতে হরেকৃষ্ণের বহু ছবি ও তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখা ছিল। ১৯৭৮-এর ভয়াবহ বন্যায় সবটাই খোয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, হরেকৃষ্ণ যেখানে শিক্ষকতা করতেন, সেই পাতিনান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাঁর একটি স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলা হোক। আমতার বিধায়ক অমিত সামন্তের কাছে এই মর্মে আবেদন জানিয়ে​ছেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)