চাপের মুখে অবশেষে মাথা ঝোঁকালেন অনন্ত মহারাজ। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বার বার অসম্মানজনক মন্তব্য করার পরে নাম না করে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী, তাঁর বঙ্গবিভূষণও কেড়ে নিয়েছিল রাজ্য সরকার। তার পরেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের ফেসবুক পেজে ক্ষমা প্রার্থনার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি। অনন্ত মহারাজ বলেন, ‘আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।’
চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি, নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে বঙ্গ বিভূষণ সম্মান দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু নেতাজি সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য বৃহস্পতিবারই সেই সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়। তার পরেই গভীর রাতে ফেসবুক পেজে একটি ভিডিয়ো বার্তা পোস্ট করেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ‘নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।’
কয়েক দিন আগে নেতাজি এবং তাঁর তৈরি আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের নেতা অনন্ত মহারাজ। তার পর থেকেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচনার ঝড় ওঠে সমাজের সব মহল থেকেই। কিন্তু তার পরেও নিজের মন্তব্যে অনড় ছিলেন অনন্ত মহারাজ। বরং বুক বাজিয়ে বলেছিলেন, ‘ভুলটা কী বলেছি?’
এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার। গত বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনও অপমানজনক বা কটূ মন্তব্য করলে কাউকে ছাড়া হবে না। এমনকী, অভিযুক্ত যদি জনপ্রতিনিধি হন, তা হলেও নিস্তার মিলবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। উল্লেখ্য, অনন্ত মহারাজ বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। ফলে তাঁকে নিশানা করেই শুভেন্দু এই মন্তব্য করেছিলেন বলে মনে করেন অনেকে।
তার পরেও ক্ষমা চাননি অনন্ত। বৃহস্পতিবার রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁর বঙ্গ বিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রাজ্যের প্রতি অবদানের জন্য তাঁকে ওই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, অনন্ত মহারাজের কাছে বঙ্গ বিভূষণ থাকা ওই সম্মানের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর পরে রাতেই ক্ষমা প্রার্থনা করে ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি।
প্রশ্ন: অনন্ত মহারাজ কেন ক্ষমা চাইলেন?
উত্তর: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পরে রাজ্য সরকার তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করে। এর পরেই তিনি ক্ষমা চেয়ে ভিডিয়ো বার্তা দেন।
প্রশ্ন: অনন্ত মহারাজ কী বলেছেন?
উত্তর: ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কিছু অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যে কেউ মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
প্রশ্ন: অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ কেন কেড়ে নেওয়া হল?
উত্তর: নেতাজিকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পর রাজ্য সরকার পর্যালোচনা করে জানায়, তাঁর কাছে বঙ্গবিভূষণ থাকা ওই সম্মানের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সম্মানটি প্রত্যাহার করা হয়।
প্রশ্ন: অনন্ত মহারাজকে কি মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন?
উত্তর: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাম না করে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। নেতাজি সম্পর্কে কোনও অপমানজনক বা কটূ মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি জানিয়েছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি হলেও ছাড় পাবেন না বলে সতর্ক করেছিলেন।
প্রশ্ন: অনন্ত মহারাজ কোন দলের সাংসদ?
উত্তর: অনন্ত মহারাজ বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। তিনি গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত।