প্রধান বিচারপতির বিরোধিতা, মিলবে না ‘আইনজীবী’ স্বীকৃতি! নির্দেশ দিয়েও পিছু হঠল বার কাউন্সিল
প্রতিদিন | ১৪ আগস্ট ২০২৬
সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন আইনের পড়ুয়ারা। তারপরই বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া জানিয়ে দেয়, প্রতিবাদী পড়ুয়ারা ডিগ্রি পেলেও আইনজীবী হিসাবে স্বীকৃতি পাবেন না। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, কোন যুক্তিতে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত? শেষ পর্যন্ত পিছু হঠল বার কাউন্সিল। পড়ুয়াদের নিয়ে জারি করা নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নিল তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটিতে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হন সাড়ে চারশো পড়ুয়া। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতির ‘ককরোচ’ মন্তব্য নিয়ে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদীদের মামলায় ভিডিও দেখা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, এসব দেখার সময় নেই। পড়ুয়াদের মতে, ‘এই ধরণের মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি আমাদের প্রতি উদাসীনতা দেখিয়েছেন। তাঁকে আমাদের কলেজে আমন্ত্রণ জানানো, তাঁর হাত দিয়ে আমাদের ডিগ্রি তুলে দেওয়া-এগুলো মেনে নেওয়া যায় না।’
প্রতিবাদের কয়েকদিন পরই বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া জানিয়ে দেয়, হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের ২০২৬ সালের কোনও স্নাতককেই কোনও রাজ্যের বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে না। সর্বভারতী বার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী ভিপি শর্মা জানিয়েছেন, কমিটির অনুমোদনক্রমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এটি প্রয়োজনীয় ছিল।
তবে কয়েকঘণ্টার মধ্যেই ‘ডিগবাজি’। বার কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন মনন কুমার এক্স হ্যান্ডেলে জানান, ‘চলতি বছর হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ থেকে পাশ করা পড়ুয়ারা আইনজীবী স্বীকৃতির আবেদন করতে পারবেন। যদি ওই পড়ুয়া কোনও ভুল না করে থাকেন তাহলে কোনও সমস্যা হবে না।’ তবে প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের থেকে প্রতিবাদ নিয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিল বার কাউন্সিল। সেখানে পড়ুয়াদের নাম উল্লেখ থাকবে কিনা, জানা নেই। ‘প্রতিবাদী’ তালিকায় নাম থাকা পড়ুয়াদের কি ফল ভুগতে হবে?