• দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ সুলতানি আমল, দানা বাঁধছে বিতর্ক
    এই সময় | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের স্নাতকোত্তরের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়ল সুলতানি আমল। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। স্নাতকোত্তরের তৃতীয় সেমেস্টারের পাঠ্যক্রমে দিল্লির সুলতানি আমল বিষয়ক— ‘দ্য দিল্লি সুলতানেট: স্ট্রাকচার্স অফ অথরিটি ইন মেডিয়েভাল নর্থ ইন্ডিয়া’ শীর্ষক এই পেপারে মধ্যযুগে, বিশেষত ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রশাসনিক কাঠামো, রাষ্ট্রব্যবস্থা, ধর্ম এবং সংস্কৃতির ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে পড়ানো হতো পড়ুয়াদের। তা বাদ পড়ায় প্রত্যাশিত ভাবেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

    সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি থেকে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় তৈরি হওয়া ‘পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক’-কে ভিত্তি করেই নতুন পাঠ্যক্রম হয়েছে। তা কার্যকরও হয়েছে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে।

    তবে শুধু সুলতানি আমল নয়, তৃতীয় সেমেস্টারের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে ১৪০০-১৫৫০ খ্রিস্টাব্দের সময়কালে উত্তর ভারতের ইতিহাস, প্রাচীন ভারতে নারী ও লিঙ্গব্যবস্থা সংক্রান্ত পেপার— ‘জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন ইন আর্লি ইন্ডিয়া: ১৫০০ বিসিই টু ১০০০ সিই’। পাঠ্যক্রমের তালিকায় নেই আরও দু’টি পেপার— ‘পলিটিক্যাল প্রসেসেস অ্যান্ড স্ট্রাকচার অব পলিটিজ ইন আর্লি ইন্ডিয়া’ এবং ‘রিলিজিয়ন অ্যান্ড সোসাইটি ইন অ্যানশিয়েন্ট ইন্ডিয়ান লিটারেচার’।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, পাঠ্যক্রমে মোট ৩৮টি পেপার রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল ইতিহাস বিভাগ। কিন্তু গত ৭ অগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছেন, তাতে অনুমোদিত হয়েছে মাত্র ১৬টি বিষয়। অর্থাৎ, বাকি ২২টি বিষয় আপাতত তালিকাভুক্ত হয়নি।

    ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপকদের একাংশের মতে, স্নাতকস্তরে দিল্লির সুলতানি আমল নিয়ে যা পড়ানো হয়, তা সাধারণ রূপরেখা মাত্র। কিন্তু স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিষয়টি অনেক বিশদে পড়ানো হয়। কিন্তু নতুন শিক্ষানীতি মেনে পাঠ্যক্রম সাজাতে গিয়েই তা বাদ পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স-এর ডিন কে রত্নাবলী জানান, একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদনক্রমে নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি হয়েছে। তাতে ইতিহাস বিভাগের প্রধান এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের পাশাপাশি এক জন বাইরের বিশেষজ্ঞও ছিলেন।

  • Link to this news (এই সময়)