আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে এল পুলিশ। বৃহস্পতিবার বালেশ্বরের একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরে রাত আড়াইটে নাগাদ খড়দহ থানায় আনা হয় নির্মলকে। আপাতত লকআপেই রাখা হয়েছে তাঁকে। উল্লেখ্য, সোমবার খড়দহ থানায় নির্মলের বিরুদ্ধে অভয়ার দেহ সৎকার করে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ করেছিলেন মৃত চিকিৎসকের বাবা। তার পরেই ওডিশা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময়ে নির্মলকে লক্ষ্যে করে ডিম ছোড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে থানার ক্যান্টিনের এক কর্মীকে দেখতে পেয়ে চা চান নির্মল। তাঁকে আদা দেওয়া দুধ-চা দেওয়া হয়। এর পরে বিস্কুটও চান তিনি। মেটানো হয় সেই আবদারও। সকালে তাঁকে দেখতে থানায় যান নির্মলের পুত্রবধূ দ্বীপান্বিতা ঘোষ। শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি। সকালের দিকে ক্যান্টিন থেকে খাবার এনে দেওয়া হয় নির্মলকে। ডিম টোস্ট, বাটার টোস্ট এবং ঘুগনি খান তিনি।
এদিকে, নির্মলকে গ্রেপ্তারির নেপথ্যে পুলিশের তল্লাশি অভিযানের বেশ কিছু তথ্যও সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, বালেশ্বরের যে হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেখানে গত দু’দিন ধরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন নির্মল। পুলিশের চোখ এড়াতে ভাড়া গাড়ি ব্যবহার করছিলেন। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীদের আরও দাবি, বার বার গাড়িও বদলাচ্ছিলেন তিনি।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে বালেশ্বরে পৌঁছন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ ও খড়দহ থানার আধিকারিকরা। সংশ্লিষ্ট হোটেলে গিয়ে একটি পশ্চিমবঙ্গের নম্বরপ্লেট লাগানো গাড়ি দেখতে পান তাঁরা। এর পরেই সন্দেহ আরও বাড়ে। হোটেলের রেজিস্টার খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সেখানেই নির্মলের নাম পান তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে একতলার একটি রুমে হানা দেয় পুলিশ। সূত্রের খবর, পুলিশ ঘরে ঢুকতেই নির্মল বলে ওঠেন, ‘আমি কখনও কারও ক্ষতি করেননি। বরং সকলের উপকারই করেছি।’
হোটেল থেকে বের করে আনার সময় মুখ ঢাকতে চান নির্মল। সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত হোটেলের একটি তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকেই তাঁকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। পরে পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে বালেশ্বর থেকে খড়দহ থানায় আনা হয় তাঁকে। এখন লকআপেই রয়েছেন নির্মল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। কী ভাবে তিনি বালেশ্বরে পৌঁছলেন, সেখানে কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং গত দু’দিনে তাঁর গতিবিধি কী ছিল— সে সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ দিন দুপুর বারোটা নাগাদ মাথায় হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয় নির্মলকে। আগে থেকেই থানার সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। থানা থেরে বেরোতেই তাঁকে লক্ষ্যে করে ডিম ছুড়তে শুরু করেন তাঁরা। জুতো, কালি, গোবরও ছোড়া হয়। একই মামলায় সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। নির্মলের সঙ্গে তাঁকেও আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ অগস্ট পানিহাটিতে ডাক্তারি পড়ুয়ার স্মরণে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে আরজি করের ছাত্রীর দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা নিয়ে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তার পরেই নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তিন জনের নামে মামলা রুজু করে ব্যারাকপুর কমিশনারেট। সেই মামলাতেই নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রশ্ন: নির্মল ঘোষকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
উত্তর: আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মৃত চিকিৎসকের বাবা খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
প্রশ্ন: কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নির্মলকে?
উত্তর: ওডিশার বালেশরের একটি হোটেল থেকে বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রশ্ন: তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে?
উত্তর: গ্রেপ্তারের পর রাত আড়াইটে নাগাদ নির্মলকে খড়দহ থানায় আনা হয়। আপাতত তাঁকে থানার লকআপে রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন: বালেশ্বরের হোটেলে কী ভাবে নির্মলের সন্ধান পেল পুলিশ?
উত্তর: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ ও খড়দহ থানার আধিকারিকেরা হোটেলে পৌঁছন। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের নম্বরপ্লেট লাগানো একটি গাড়ি দেখতে পান তাঁরা। পরে হোটেলের রেজিস্টার পরীক্ষা করে নির্মলের নাম পাওয়া যায়। এর পর একতলার ঘরে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রশ্ন: পুলিশের চোখ এড়াতে কী করছিলেন নির্মল?
উত্তর: তদন্তকারীদের দাবি, গত দু’দিন ধরে বালেশ্বরের হোটেলে ছিলেন তিনি। ভাড়া গাড়ি ব্যবহার করছিলেন এবং বার বার গাড়ি বদলাচ্ছিলেন।
প্রশ্ন: গ্রেপ্তারের সময় কী বলেছিলেন নির্মল?
উত্তর: পুলিশ ঘরে ঢোকার পর তিনি দাবি করেন, ‘‘আমি কখনও কারও ক্ষতি করিনি। বরং সকলের উপকারই করেছি।’’
প্রশ্ন: শুক্রবার সকালে থানায় কী খেয়েছেন নির্মল?
উত্তর: সকালে আদা দেওয়া দুধ-চা ও বিস্কুট খান তিনি। পরে ডিম টোস্ট, বাটার টোস্ট এবং ঘুগনিও খেয়েছেন।
প্রশ্ন: নির্মলের সঙ্গে দেখা করতে কে থানায় গিয়েছিলেন?
উত্তর: শুক্রবার সকালে তাঁর পুত্রবধূ দ্বীপান্বিতা ঘোষ খড়দহ থানায় গিয়ে নির্মলের সঙ্গে দেখা করেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন।