• ‘শিক্ষকরা স্কুল সামলে জনগণনার কাজ কখন করবেন?’ রাজ্যের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের
    এই সময় | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, শিক্ষকরা স্কুলের দায়িত্ব সামলে কী ভাবে জনগণনার কাজ করবেন? দিনে ৪০ কিলোমিটার যাতায়াত করে এই কাজ করা আদৌ সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    জনগণনার কাজে শিক্ষকদের যোগ দেওয়া নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত। এই কাজ করতে গিয়ে স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তাঁদের ছুটি কাটা হবে নাকি ‘অন ডিউটি’ হিসাবে ধরা হবে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এর মধ্যেই স্কুলশিক্ষা দপ্তর জানিয়ে দেয়, স্কুলে পঠনপাঠন শেষ হওয়ার পরে কিংবা সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে শিক্ষকরা জনগণনার কাজ করতে পারবেন। এই নির্দেশ ঘিরে ক্ষোভ ছড়ায় শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, জনগণনার মতো সরকারি কাজ নিয়ম অনুযায়ী ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই করার কথা। স্কুলের ক্লাস শেষ করে কিংবা ছুটির দিনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই কাজ করা কার্যত অসম্ভব।

    এর পরেই স্কুল শিক্ষকদের জনগণনার কাজকে অন ডিউটি হিসেবে গণ্য করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। সেই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, ‘তাঁরা কখন স্কুল করবেন, আর কখনই বা জনগণনার কাজে যাবেন?’ জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগের আগে তাঁদের বায়োডাটা বা কর্মস্থল সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা হয়নি কেন, সেই প্রশ্নও রাজ্যকে করেন বিচারপতি। শিক্ষকেরা কোথা থেকে কাজে আসছেন এবং তাঁদের স্কুল কোথায়—এই বিষয়গুলি আগে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, জনগণনার কাজ সব সময়ে স্কুলের পাশেই হবে এমন নয়। বিকেল ৪টেয় স্কুল ছুটি হলে অন্য জায়গায় গিয়ে কাজ করে তাঁরা কখন বাড়ি ফিরবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত। রাজ্যের তরফে বলা হয়, জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি কাজ। দেশের সব রাজ্যেই এই কাজ হচ্ছে। কোথাও কোনও সমস্যা হচ্ছে না। রাজ্যের আরও বক্তব্য, শিক্ষকরা সব সময় বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলে থাকেন না। এই বক্তব্য আদালত নথিভুক্ত করবে কি না, রাজ্যের কাছে জানতে চান বিচারপতি।

    শিক্ষকদের একসঙ্গে বড় সংখ্যায় জনগণনার কাজে না পাঠিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেন বিচারপতি রাও। তাঁর মতে, একসঙ্গে অনেক শিক্ষককে না নিয়ে ৪-৫ জন করে পাঠানো যেতে পারে। তাতে স্কুলের পঠনপাঠনও ব্যাহত হবে না। প্রয়োজনে এক দিন অন্তর শিক্ষকদের জনগণনার কাজে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘রাজ্য চাইলে অনেক কিছু করতে পারত। অন্য কোনও ব্যবস্থা করুন।’

    এ দিন মামলাকারীদের তরফে তাঁদের যাবতীয় তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁরা কোথায় থাকেন, কোন স্কুলে কর্মরত, স্কুলের কী সময়সূচি—এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে এসজি-র কাছে দেওয়া হবে। মামলাকারী শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে তাঁদের সেন্সাসের কাজে কী ভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আগামী মঙ্গলবার আদালতকে জানাবে রাজ্য।

    প্রশ্ন: মামলাটি কী নিয়ে?

    উত্তর: স্কুলশিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগ এবং সেই কাজের সময়কে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা নিয়েই মামলা।

    প্রশ্ন: কত জন শিক্ষক মামলা করেছেন?

    উত্তর: ৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন।

    প্রশ্ন: শিক্ষকদের মূল দাবি কী?

    উত্তর: জনগণনার মতো সরকারি কাজে যোগ দিলে সেটিকে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করতে হবে। স্কুলের ক্লাস শেষ করে বা ছুটির দিনে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই কাজ করানো যাবে না বলে তাঁদের দাবি।

    প্রশ্ন: রাজ্য কী বলেছে?

    উত্তর: জনগণনা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজ। স্কুলের পঠনপাঠন শেষ হওয়ার পর অথবা সপ্তাহান্তের ছুটির দিনে শিক্ষকরা জনগণনার কাজ করতে পারেন বলে জানিয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর।

    প্রশ্ন: আদালত কেন আপত্তি জানিয়েছে?

    উত্তর: আদালতের প্রশ্ন, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলের দায়িত্ব সামলে শিক্ষকরা কখন জনগণনার কাজ করবেন। বিশেষ করে কর্মস্থল ও জনগণনার এলাকার মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে যাতায়াত করেও কাজ করা কঠিন বলে মনে করছে আদালত।

    প্রশ্ন: বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কী পরামর্শ দিয়েছেন?

    উত্তর: একসঙ্গে বড় সংখ্যায় শিক্ষককে না নিয়ে ৪-৫ জন করে অথবা এক দিন অন্তর শিক্ষকদের জনগণনার কাজে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    প্রশ্ন: এরপর কী হবে?

    উত্তর: মামলাকারী শিক্ষকদের বাসস্থান, স্কুল, স্কুলের সময়সূচি-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের জনগণনার কাজে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, আগামী মঙ্গলবার আদালতকে জানাবে রাজ্য।

  • Link to this news (এই সময়)