• ‘ক্ষমার অযোগ্য কাজ...’, নেতাজি ইস্যুতে অনন্তকে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, তোপ অগ্নিমিত্রারও
    এই সময় | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের পরে ক্ষমা চেয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। কিন্তু তাতে যে চিঁড়ে ভিজবে না, তা বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ভবানীপুরে এমএলএ কাপের উদ্বোধনে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

    চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি, নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে বঙ্গ বিভূষণ সম্মান দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু নেতাজি সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য বৃহস্পতিবারই সেই সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়। তার পরেই গভীর রাতে ফেসবুক পেজ থেকে একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিয়ো বার্তা পোস্ট করেন অনন্ত। সেখানে তিনি বলেন, ‘নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।’

    এমএলএ কাপের উদ্বোধনের সময়ে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। তখনই শুভেন্দু বলেন, ‘দুঃখপ্রকাশ করেছেন। বিষয়টা ইতিবাচক ভাবে নেওয়া উচিত। তবে ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন। তাঁর বয়সের কথা মাথায় রেখে বলছি, নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ক্ষমা চেয়েছেন, ভালো করেছেন।’ নেতাজির বিরুদ্ধে অবমাননাকর পোস্ট করায় ইতিমধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘২৮৭টি ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে। আলাদা করে ৫টি এফআইআর-ও হয়েছে।’

    অনন্তকে তোপ দাগেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। সরাসরি বলে দেন, ‘রাজ্যসভার সাংসদ হতে পারেন, কিন্তু তিনি বাঙালি পরিচয়ের ঊর্ধ্বে নন।’ কেউ যদি এই ধরনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমে রাজনীতি করার চেষ্টা করেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন অগ্নিমিত্রা।

    কয়েক দিন আগে নেতাজি এবং তাঁর তৈরি আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের নেতা অনন্ত মহারাজ। তার পর থেকেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচনার ঝড় ওঠে সমাজের সব মহল থেকেই। কিন্তু তার পরেও নিজের মন্তব্যে অনড় ছিলেন অনন্ত মহারাজ। বরং বুক বাজিয়ে বলেছিলেন, ‘ভুলটা কী বলেছি?’

    এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার। গত বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনও অপমানজনক বা কুমন্তব্য করলে কাউকে ছাড়া হবে না। এমনকী, অভিযুক্ত যদি জনপ্রতিনিধি হন, তা হলেও নিস্তার মিলবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। উল্লেখ্য, অনন্ত মহারাজ বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। ফলে তাঁকে নিশানা করেই শুভেন্দু এই মন্তব্য করেছিলেন বলে মনে করেন অনেকে।

    তার পরেও ক্ষমা চাননি অনন্ত। বৃহস্পতিবার রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁর বঙ্গ বিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রাজ্যের প্রতি অবদানের জন্য তাঁকে ওই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, অনন্ত মহারাজের কাছে বঙ্গ বিভূষণ থাকা ওই সম্মানের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর পরে রাতেই ক্ষমা প্রার্থনা করে ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি।

    প্রশ্ন: অনন্ত মহারাজ কী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন?

    উত্তর: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং তাঁর তৈরি আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন তিনি। মন্তব্যের পর থেকেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

    প্রশ্ন: অনন্ত মহারাজ কি ক্ষমা চেয়েছেন?

    উত্তর: হ্যাঁ। বৃহস্পতিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৭ সেকেন্ডের ভিডিয়ো বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

    প্রশ্ন: ক্ষমা চাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন?

    উত্তর: শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দুঃখপ্রকাশের বিষয়টি ইতিবাচক ভাবে নেওয়া উচিত। তবে তাঁর মতে, অনন্ত মহারাজ ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ করেছেন।

    প্রশ্ন: অনন্ত মহারাজের বঙ্গ বিভূষণ কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে?

    উত্তর: নেতাজিকে নিয়ে তাঁর অবমাননাকর মন্তব্যের পর রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁর কাছে ‘বঙ্গ বিভূষণ’ থাকা ওই সম্মানের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সম্মানটি প্রত্যাহার করা হয়।

    প্রশ্ন: কবে তাঁকে বঙ্গ বিভূষণ দেওয়া হয়েছিল?

    উত্তর: চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে বঙ্গ বিভূষণ সম্মান দেওয়া হয়েছিল।

    প্রশ্ন: অগ্নিমিত্রা পাল কী বলেছেন?

    উত্তর: রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, অনন্ত মহারাজ রাজ্যসভার সাংসদ হলেও বাংলার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে নন। এই ধরনের মন্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে রাজনীতি করার চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রশ্ন: নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্টের ঘটনায় কী পদক্ষেপ হয়েছে?

    উত্তর: মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ৫টি পৃথক এফআইআর হয়েছে এবং ২৮৭টি ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)