'দেশপ্রিয় পার্কে কোনও প্যান্ডেল ভাঙা হয়নি।' বিতর্কের মুখে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী পুজো ঘিরে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ক্লাবের পুরনো পুজো কমিটির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অভিযোগ তোলা হয়, শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা দুর্গাপুজো বন্ধ করতে চাইছে, ভেঙে ফেলা হয়েছে প্যান্ডেলের বাঁশ। যদিও নতুন গঠিত হতে চলা কমিটির উদ্যোক্তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন রাসবিহারী কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী।
কী বলছেন স্বপন দাশগুপ্ত?
মন্ত্রী বলেন, 'বিভিন্ন বিবৃতির মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। আমি দেশপ্রিয় পার্কের আশপাশেরই বাসিন্দা, এই পার্ক আমার কেন্দ্রের সীমানায় পড়ে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, কোনও প্যান্ডেল ভেঙে ফেলা হয়নি।' তিনি আরও বলেন, 'আমি জানতে পেরেছি, দেশপ্রিয় পার্কের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ২টো কমিটির মধ্যে বিবাদ রয়েছে। পাশাপাশি KMC থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, পার্কের কিছু নির্মাণ নিয়ে। সর্বোপরি একটি মামলা চলছে, পার্কের ভিতরে ক্লাবঘরের নির্মাণ নিয়ে। যতক্ষণ না পর্যন্ত রিপোর্ট আসছে ওই ক্লাবঘর কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। বিধায়ক হিসেবে আমি চাই, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পার্কগুলি আবার খুলে দেওয়া হয়।'
স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, তিনি চান দেশপ্রিয় পার্ক সহ অধিকাংশ দুর্গাপুজোই যেন অরাজনৈতিক থাকে। কোনও কমিটিতে তিনি থাকবেন না, অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন সকলেরই। তবে এলাকার সমস্ত দুর্গাপুজোতেই তিনি যাবেন। মন্ত্রীর বক্তব্য, 'যদি কোনও বিবাদ থাকে পাড়ার লোকেরা নিজেদের মধ্যে যেন মীমাংসা করে নেয় এবং এর মধ্যে যেন রাজনীতি না আসে। আইন মেনে কাজ করলেই হবে।'
ঠিক কী অভিযোগ ছিল?
রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে দেশপ্রিয় পার্কেও পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। যা নিয়েই বিবাদ। গত ৯ অগাস্ট, রবিবার সন্ধ্যায় নতুন কমিটি তৈরির প্রক্রিয়া চলাকালীন দুই কমিটির সদস্যদের মধ্যে বচসা হয়। রাতের অন্ধকারে প্যান্ডেল তৈরির জন্য পোঁতা বাঁশ খুলে, ভাঙচুর করার অভিযোগ তোলে পুরনো কমিটি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে সরব হয় তারা।
এ প্রসঙ্গে বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির (ওরফে দেশপ্রিয় পার্ক) নতুন প্রস্তাবিত কমিটির উদ্যোক্তারা জানান, পুরনো কমিটির কিছু রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ব্যক্তি এই ভুল অভিযোগ করছে। তাঁরা পদ আঁকড়ে থাকার কারণে নতুন করে পুজোর কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। গা জোয়ারি করেই বাঁশ পোঁতা হচ্ছিল নতুন কমিটি গঠন হওয়ার আগেই। এরপরই পাড়াল বাসিন্দারা ওই বাঁশ খুলে দেন। এমনটাই জানাচ্ছে নতুন কমিটির উদ্যোক্তাদের টিম।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পুরনো কমিটির সোশ্যাল মিডিয়া বিবৃতিটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, BJP দুর্গাপুজোয় বাধা দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির প্রাক্তন সম্পাদক তথা নতুন কমিটির উদ্যোক্তা সোমনাথ সিনহা বলেন, '২০১১ থেকে এই ক্লাব দেবাশিস কুমার তথা তৃণমূল পরিচালিত ছিল, বিষয়টা সকলের কাছেই পরিষ্কার। কোনও রাজনৈতিক পার্টি ক্লাব চালালে যা হয়, সেভাবেই চলেছে। পুরনো কমিটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরও পার্টি মদতপুষ্ট কিছু ছেলের কথায় হঠাৎ করে বাঁশ পুঁতে প্যান্ডেল গড়া শুরু হয়। আমরা ওঁদের জানাই, এগুলো খুলে ফেলতে কারণ নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এসব করা যায় না। স্থানীয় মানুষই ওই বাঁশগুলো তাই খুলে দিয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী তাণ্ডব এখানে হয়নি। এগুলো স্রেফ ফালতু কথা।'
পুজোর বাকি মেরেকেটে ২ মাস। ৭০ ফুট উঁচু বৌদ্ধ বিহারের আদলে মণ্ডপ নির্মাণের কথা রয়েছে দেশপ্রিয় পার্কের ৮৯তম দুর্গাপুজোয়। প্রতিমা গড়ার কাজ এগিয়েছেন শিল্পী সনাতন রুদ্র পাল। তবে ন্যূনতম কাজও এগোয়নি প্যান্ডেলের। এখন পল্লিবাসীর দাবি, ছোট বাজেটেই সাবেকিয়ানা বজায় রেখে, থিমের মধ্যে না গিয়ে ছিমছাম পুজো হোক। পাড়ার সকলে একসঙ্গে বসে আড্ডা-গল্প, মেলা উপভোগ করার দিনগুলি ফেরাতে উদ্যোগী নতুন প্রস্তাবিত কমিটি। সেক্ষেত্রে তারা হাল ধরার পর এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর জৌলুস বজায় থাকে, নাকি নমো নমো করে পুজো হয়, সেটাই এখন দেখার।