মুর্শিদাবাদে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ঘুমের ব্যাঘাতে ৩ শিশুকে খুনের অভিযোগ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৪ আগস্ট ২০২৬
মুর্শিদাবাদের বুকে ঘটে গেল নৃশংস ঘটনা। হাঁসুয়া দিয়ে ভাগ্নি ও ভাইঝিদের খুন করার পরে টোটো চালকের গলায় সেই রক্তমাখা হাসুয়া ধরল অভিযুক্ত টোটো চালক। তারপরে সোজা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করল সে। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, যে হাঁসুয়া দিয়ে সে তার ভাগ্নি-ভাইঝিদের কুপিয়েছে, সেই একই হাঁসুয়া দিয়েই সে টোটোচালককে কোপায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক গোলাম সারওয়ার ওরফে বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে। বাদশা যে চার শিশুর উপর হামলা চালিয়েছে, তারা সবাই তার ভাগ্নি-ভাইঝি। তাদের মধ্যে দুই ভাগ্নি এবং এক ভাইঝি নিহত হয়েছে। এক জনের বয়স ৪, বাকি দু’জনের যথাক্রমে ১০ ও ১২। আর এক ভাগ্নি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, বাদশার বিরুদ্ধে খুন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘটনার তদন্তে এলাকায় পৌঁছতেই পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়েরা। তাঁরা অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। বুলডোজ়ার দিয়ে তার বাড়ি ভাঙারও দাবি তোলেন কেউ কেউ।
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, বাচ্চারা খেলাধুলোর সময়ে খানিক চিৎকার-চেঁচামেচি করায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেই বলেই বাদশা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এই ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবার-পড়শিদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত ভীষণ অন্তর্মুখী এবং ঘরকুণো। তার ঘর থেকে কিছু ওষুধপত্রও মিলেছে, যা মানসিক অবসাদের ওষুধ বলেই মনে করছেন তদন্তকারীদের একাংশ। সেই সূত্রেই তদন্তকারীদের কারও কারও অনুমান, সম্ভবত মানসিক কারণেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বাদশা। তবে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।