বেশ কিছুদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ অর্থাৎ আরএসএসের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকে। খোদ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ছেলে তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে একাধিকবার আরএসএস নিষিদ্ধ করার দাবিতে সরব হয়েছেন। তবে তিনিও জানেন সরাসরি সংঘ পরিবারকে নিষিদ্ধ ঘোষণাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। সম্ভবত সেকারণেই ঘুরপথে আরএসএসের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ তথা নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে কর্নাটক সরকার।
ডিকে শিবকুমারের নেতৃত্বে কর্নাটকের মন্ত্রিসভা সরকারি সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এ সম্মতি দিয়েছে। ওই বিলে বলা হয়েছ, যে সমস্ত সংস্থার রেজিস্ট্রেশন নেই, সেইসব সংস্থা জনসমক্ষে কিংবা সরকারি জমিতে নিজেদের কোনও কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। জনসমক্ষে যে কোনও ধরনের জমায়েতের জন্য পূর্ব অনুমতি লাগবে। কোনও স্কুল-কলেজ বা সরকারি সম্পত্তিতে কোনওরকম বেসরকারি সংস্থা বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অনুমতি ছাড়া কার্যকলাপ করতে পাারবে না।
প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলছেন, “এই বিল সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সেগুলির দায়িত্বশীল ব্যবহারের আইনি কাঠামো তৈরির উদ্দেশে আনা। এই সম্পত্তিগুলির অপব্যবহার বন্ধ করা দরকার।” যদিও ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মূলত আরএএসএসের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্যই এই বিল আনছে কর্নাটক সরকার। সচরাচর আরএসএসের শাখা সরকারি স্কুল-কলেজ বা মন্দির চত্বরে চলে। স্বয়ংসেবকদের শরীরচর্চা বা অন্য কর্মসূচির জন্যও সরকারি সম্পত্তি ব্যবহৃত হয়। সে সব বন্ধ করে দিতেই এই বিল আনা হয়েছে। যদিও খাড়গে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, “আপনার এটা কেন ভেবে নিচ্ছেন যে নির্দিষ্ট একটি সংস্থাকে টার্গেট করেই এই বিল আনা।”
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পর সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানো সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করার কথা ভাবে সরকার। ফলে ওই সময়েই নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। পরে জরুরি অবস্থাতেও সংঘকে নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় বিজেপি। ফলে সরাসরি সংঘের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করতে না পারলেও ঘুরপথে সেটা করতে চাইছে কংগ্রেস।