• কী হয়েছিল শ্মশানে? নির্মলের গ্রেপ্তারির পরই খড়দহ থানায় গোপন জবানবন্দি অভয়ার বাবার
    প্রতিদিন | ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে গোপন জবানবন্দি দিতে থানায় পৌঁছলেন অভয়ার বাবা। এদিকে, নির্মল গ্রেপ্তার হতেই থানার বাইরে ভিড় উচ্ছ্বসিত জনতার। ডিজে বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায় অনেককে। বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশের সময় পরিস্থিতি যে বেগতিক হতে পারে তা আগেই টের পেয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা। সে কারণে নির্মল ঘোষকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। যদিও তাতে শেষরক্ষা হয়নি। থানার সামনে জড়ো হওয়া লোকজন নির্মল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। ছুড়ে দেওয়া হয় জুতোর মালা। চড়, লাথিও মারা হয় তাঁকে।

    গত ৯ আগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই রাতে শ্মশানঘাটে কী হয়েছিল, বারাকপুরের সিপিকে সে তদন্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা বলেন। সেই মতো এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা। তার অভিযোগের দু’দিন পরই ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ। জানা গিয়েছে, ওড়িশার বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াকে পুরনো মোবাইল নম্বর সুইচড অফ করে দেন। রাজ্য পুলিশ তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে যান। সেখানেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওড়িশার আদালতে তোলা হয় তাঁকে। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহে নিয়ে আসা হয়।

    এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার নির্মল ও সঞ্জয়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারিতে খুশি অভয়ার মা। সোশাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। এদিকে, নির্মলের গ্রেপ্তারির পরই অভয়ার বাবা এবং মায়ের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে বলেই খবর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)