স্কুলের ক্যান্টিন থেকে প্যাটিস খাওয়ার পরে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে মৃত্যু হলো ১৭ বছরের এক দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ার। ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের জয়পুরের ঝোটওয়ারা এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে। মৃত পড়ুয়ার নাম প্রিন্স সোনি। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরেও তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। প্রায় ৪৫ মিনিট স্কুলেই তাকে ফেলে রাখা হয়েছিল। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ। স্কুলের CCTV ফুটেজে দেখা গিয়েছে, প্রিন্স হেঁটে যাচ্ছিল। আচমকাই সে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যায়। এর পরে এক শিক্ষকের দিকে তাকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। কয়েকজন স্কুলকর্মী সঙ্গে সঙ্গে তাকে তুলে একটি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সোফায় শুইয়ে দেওয়া হয় তাকে। CCTV-তে প্রিন্সকে CPR দেওয়ার চেষ্টাও করতে দেখা যায়।
পরিবারের দাবি, ওই দিন স্কুলের ক্যান্টিন থেকে একটি আলুর প্যাটিস খেয়েছিল প্রিন্স। তার বাবা অমিত সোনির অভিযোগ, প্যাটিসটি বাসি এবং তেলতেলে ছিল। সেটি খাওয়ার পরেই ছেলের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। পরিবারের আরও দাবি, খাবারটি গলায় আটকে যাওয়ার পরে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। তবে প্যাটিস খাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রিন্সের বাবা জানিয়েছেন, সকাল ১১টার দিকে স্কুল থেকে তাঁকে ফোন করে বলা হয় যে তাঁর ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তাঁকে স্কুলে আসতে হবে। তিনি স্কুল থেকে প্রায় ৩৫ মিনিট দূরে ছিলেন। প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো জ্বর বা পেটের সমস্যা হয়েছে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও ফোন আসতে থাকে। তখন তিনি আত্মীয় ও পরিচিতদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেন এবং নিজেও রওনা দেন।
পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের প্রায় ১০০ মিটার দূরেই একটি হাসপাতাল রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রিন্সকে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়নি। আত্মীয়রা প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে স্কুলে পৌঁছনোর পরেও তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ। বরং পরিবারের সদস্যদের একটি গাড়ির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের।
প্রিন্সের মা নির্মলা সোনির দাবি, স্কুলে পৌঁছে তিনি ছেলেকে কথা বলার অবস্থায় পাননি। তাঁর হাত ও মুখ ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল এবং নীল হয়ে যাচ্ছিল। এর পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে মণিপাল হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। এরপর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্কুলের অপারেটর অমিত কুমাওয়াত এবং প্রশাসক রাজেন্দ্র কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্কুলে পর্যাপ্ত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল কি না এবং অসুস্থ হওয়ার পরে প্রিন্সকে কেন দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রিন্সের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য কানওয়াটিয়া হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যান্টিনের খাবারের নমুনা, স্কুলের CCTV ফুটেজ এবং ঘটনার সময়ে উপস্থিত শিক্ষক-কর্মীদের বক্তব্যও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের পরেই স্পষ্ট হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে পড়ুয়াদের অভিভাবকদের মধ্যেও। তাঁদের প্রশ্ন, স্কুলে কোনও পড়ুয়া হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কী ধরনের জরুরি ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং তা আদৌ কার্যকর ছিল কি না। আপাতত প্রিন্সের মৃত্যুর প্রকৃত কারণের পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
জয়পুরের ঝোটওয়ারার একটি বেসরকারি স্কুলে ১৭ বছরের দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া প্রিন্স সোনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, স্কুলের ক্যান্টিনে প্যাটিস খাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
এখনও তা নিশ্চিত নয়। পরিবারের অভিযোগ, প্যাটিস খাওয়ার পরেই প্রিন্স অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে।
পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর প্রিন্সকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। প্রায় ৪৫ মিনিট তাঁকে স্কুলেই রাখা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, স্কুল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরেই একটি হাসপাতাল ছিল। তা সত্ত্বেও কেন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি, তা তদন্তের বিষয়।
CCTV ফুটেজে প্রিন্সকে স্কুলে হাঁটতে দেখা যায়। আচমকাই তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে স্কুলকর্মীরা তাঁকে একটি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যান। একজন শিক্ষককে CPR দেওয়ার চেষ্টাও করতে দেখা গিয়েছে।
হ্যাঁ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্কুলের অপারেটর অমিত কুমাওয়াত এবং প্রশাসক রাজেন্দ্র কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, খাবারের নমুনা, CCTV ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।