রাজ্যে প্রথম ১৪ অগস্ট, শুক্রবার পালিত হলো ‘বিভাজন বিভীষিকা’ স্মৃতি দিবস। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন দেশভাগের জেরে গণহত্যার প্রতিবাদে এই দিবস পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। সেই মতো মৌলালি যুবকেন্দ্রে এ দিন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা তো সবসময় পূর্ণাঙ্গ, অখণ্ড ভারত চাই। এতদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, শিবাজি, মহারানা প্রতাপ সবাইকে ভুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁদের ইতিহাস আমাদের আরও ভালোভাবে জানতে হবে।’
১৩ ও ১৪ অগস্ট দু’দিনব্যাপী দেশভাগের ইতিহাস নিয়ে অনুষ্ঠান, বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। দেশভাগের মানবিক প্রভাব, মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য কাহিনি এবং সেই সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ছবি ও নথি তুলে ধরা হয়। এ দিন ‘বিভাজন বিভীষিকা’ স্মরণ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল কলকাতায়।
উত্তর কলকাতাতেই কেন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, দেশভাগের পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই এলাকা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সে দিন একমাত্র রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি না থাকলে হিন্দুরা বাঁচত না। কলকাতার একটি রাস্তা ছিল সুরাবর্দি খাঁ-এর নামে। আমরা সেই রাস্তার নাম বদলে গোপাল মুখার্জি অ্যাভিনিউ করেছি।’
দেশভাগের সময়ে জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকার সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরোনো ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার বহু চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতকে বিভাজিত করার নামে দু’টি হিন্দু গণহত্যা সংগঠিত হয়েছিল। একটি ৭১ সালে বাংলাদেশ, আর একটি ৪৬ সালের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি গণহত্যা। এই সব ভুলব কী করে?