বীরভূমের রামপুরহাটে ঐতিহাসিক ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড’। বিতর্ক শুরু হতেই সরিয়ে দেওয়া হলো শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামাঙ্কিত বোর্ড। পুনরায় ওই রাস্তায় ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড’ সাইনবোর্ড টাঙানো হলো শুক্রবার রাতে।
গত ১২ অগস্ট রাতারাতি বদলে যায় শহরের অন্যতম প্রধান সড়কের চেনা পরিচয়। রামপুরহাট পুরসভার পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া পুল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা এই সড়ক বহু দশক ধরে ‘নেতাজি রোড’ নামেই পরিচিত। সেই রাস্তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড’। যা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে এলাকায়।
বিতর্কের মুখে পড়ে শ্যামাপ্রসাদের নামাঙ্কিত সাইনবোর্ড খোলার নির্দেশ দেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। ঘটনা প্রসঙ্গে রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, ‘নেতাজির সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির প্রতিযোগিতা হোক সেটা আমরা চাই না। আমরা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কেও যেমন সম্মান করি, নেতাজিকেও হৃদয়ে রাখি। এই রাস্তার কোথাও কোনওদিনই দেখতে পাবেন না নেতাজির নামাঙ্কিত কোন বোর্ড লাগানো ছিল। যে নেতাজিকে কমিউনিস্টরা হিটলারের দালাল বলেছিল তারাই আজকে নেতাজি প্রীতি দেখাচ্ছে । আমরা সেই বিতর্কে জড়াতে চাই না বলে বোর্ডটি খুলে নিতে বলেছি।’
উল্লেখ্য, নেতাজির নামাঙ্কিত রাস্তা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে করায় আপত্তি তুলেছিলেন স্থানীয় বিরোধী নেতৃত্ব থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের দাবি ছিল, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতি মুছে ফেলাই বিজেপি ও আরএসএসের মূল উদ্দেশ্য।’ পুরসভা ও মহকুমাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। পাশাপাশি নেতাজির ছবি দেওয়া পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে রামপুরহাট। নাম ফেরানোর দাবিতে সোচ্চার সাধারণ মানুষও।