• ‘তৃণমূল জিতলে তৃণমূলেই…’, দলবদল নিয়ে জবাব, ‘আরবানা’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা রচনার
    এই সময় | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পর্যদুস্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রায় তিন টুকরো হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল। সংসদীয় দলের সদস্য তথা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। হঠাৎ ভোলবদল নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্কও। কেন হঠাৎ বিজেপির দিকে ঝুঁকলেন? রাজ্যে তৃণমূল জিতলে কী করতেন? শুক্রবার হুগলির একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেই সব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন ‘দিদি নম্বর ওয়ান’।

    রচনা বলেন, ‘আমার এখনও তিন বছর মেয়াদ আছে। সাংসদ হিসেবে কাজ করতে চাই। অনেক কাজ করেছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজ করব। আমি তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’

    দলের ভরাডুবির পরে একাধিক দুর্নীতির বিষয়ে সরব হয়েছিল রচনা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রচনা দাবি করেছিলেন, দলের অভ্যন্তরে একাধিক নেতা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এত দুর্নীতিগ্রস্ত দলের সঙ্গে থাকা যায় না বলেই তিনি শিবির বদলেছেন। তবে এ দিন রচনা বলেন, ‘তৃণমূল জিতলে তৃণমূলেই থাকতাম। তৃণমূল হেরে গিয়েছে বলে দল বদল করেছি। যখন তৃণমূল ছিল, তখনই কাজ করতে পারিনি। দিদিও (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলতো, রাজ্যের টাকা নেই।’ রচনার দাবি, রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রয়োজনীয়তা ছিল। রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থেই ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রয়োজন ছিল বলে দাবি সাংসদের। এমনকী, নতুন সরকার অল্পদিনেই ভালো কাজ করছে বলেও প্রশংসা করেন রচনা।

    সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে অবস্থিত বিলাসবহুল আবাসন ‘আরবানা’ নিয়ে একটি মন্তব্য করেন রচনা। ওই ‘আবাসনে থাকতে গেলে যোগ্যতা’ লাগে বলে একটি মন্তব্য করেন সাংসদ। যা নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিতর্কের ঝড় ওঠে। সেই বিষয়ে এ দিন রচনা বলেন, ‘একটা ছোটো ফ্ল্যাটে থাকতাম। স্বপ্ন দেখতাম আরবানায় থাকার। মা-বাবাকে রাখার। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আগে কোনওদিন কাউকে বলিনি। আমিও গড়িয়াহাট থেকে কাপড় কিনি। আমার মা গড়িয়ায় থাকেন। আমার মন্তব্য নিয়ে বন্ধুরা কিছু বলেননি। তবে কিছু লোক সমাজমাধ্যমে বলেছেন। এখন মনে হয় আরবানা মন্তব্য না করলেই ভালো হতো।’

  • Link to this news (এই সময়)