• প্রশ্নফাঁস থেকে অপারেশন সিঁদুর, জাতির উদ্দেশে ভাষণে ‘আত্মনির্ভর ভারতে’র বার্তা রাষ্ট্রপতির
    প্রতিদিন | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে (Independence Day Eve) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। এদিন তাঁর ভাষণ শুরুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জন গণ মন’ বেজে ওঠে। এই প্রথম রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে ‘বন্দে মাতরম’ বাজতে শোনা গেল। এরপর বক্তব্য রাখতে শুরু করে তিনি বলেন, ‘‘ভারতকে সর্বশ্রেষ্ঠ করতে হবে, তবেই স্বাধীনতা স্বার্থক।” এদিন তাঁর ভাষণে উঠে আসে প্রশ্নফাঁস থেকে অপারেশন সিঁদুর, নানা প্রসঙ্গ। উঠে আসে নকশালমুক্ত দেশের কথাও। তিনি মনে করিয়ে দেন, সমাজের সর্বস্তরের উন্নয়ন না হলে বিকশিত ভারত হবে না।

    এদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে আগ্রহ ছিল, সাম্প্রতিক সময়ের জ্বলন্ত ইস্যুগুলি যেমন নিট প্রশ্নফাঁস, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ইত্যাদি নিয়ে তিনি কী বক্তব্য রাখেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।” জানান, পরীক্ষা ব্য়বস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। দেশের তরুণ প্রজন্মের যেন শিক্ষাব্যবস্থায় ভরসা থাকে। তাঁর সার্বিক আহ্বান, ‘‘মানুষের কথা শুনতে হবে। কেউ যেন ন্যায় থেকে বঞ্চিত না থাকেন।”

    সেই সঙ্গেই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমাদের তেরঙ্গা আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। ভারতকে সর্বশ্রেষ্ঠ করতে হবে, তাহলেই স্বাধীনতা স্বার্থক।” মনে করিয়ে দেন, ‘‘অন্নদাতা, ছাত্ররা, শিল্পীরা সমাজসেবীরা, সাফাই মিত্ররা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” সেনা, পুলিশের কর্মদক্ষতার প্রশংসাও করেন তিনি। প্রশংসিত হন প্রবাসী ভারতীয়রা। 

    তিনি বলেন, ‘মিশন ২০৪৭’-এর কথাও। ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার ডাক দেন রাষ্ট্রপতি। এদিন বিভাজন বিভীষিকা দিবস। সেই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘১৪ আগস্ট বিভাজন বিভীষিকা দিবস। দেশভাগের যন্ত্রণা লক্ষ লক্ষ মানুষ সহ্য করেছেন। তবুও তাঁরা নিজেদের শিকড় ভোলেননি।”

    তাঁর ভাষণে উঠে আসে সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদী ও তাদের সহায়তাকারীদের, সে তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘‘সিঁদুর দেখেছে বিশ্ব। সন্ত্রাস মেনে নেওয়া হবে না। সেনাকে স্যালুট।” মনে করিয়ে দেন, আজ নকশাল মুক্ত হতে পেরেছে ভারত। 

    এদিন রাষ্ট্রপতি মনে করিয়ে দেন, দেশের ২৫ কোটি মানুষ গরিবির হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। ৩২ কোটি থেকে বেশি মহিলার ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট হয়েছে। সেই সঙ্গেই বলেন, ‘‘ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের মিশেল, সাংস্কৃতিক গৌরব দেশকে আত্মিক শক্তি দেয়।” তাঁর কথায় এদিন উঠে এসেছে ‘ডিজিটাল ক্রান্তি’র কথাও। 

    পরিবেশ বাঁচানোর বার্তাও এদিন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর ভাষণে উল্লেখিত হয়েছে সাঁওতালি ভাষায় রভুনাথ মুর্মু রচিত একটি গানের প্রসঙ্গ। যে গানে বলা হয়েছে, ‘শুকিয়ে যাওয়া গাছ দেখে তোতাপাখি কাঁদছে। এদিকে মানব সভ্যতার বিনাশ দেখেও আমরা কেন উদাস!’

    এই মুহূর্তে যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে পশ্চিম এশিয়া। গোটা বিশ্বে যার প্রভাব নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘ওই যুদ্ধের প্রভাব সারা বিশ্বে পড়েছে। তবুও আমাদের অর্থনীতি দ্রুত এগোচ্ছে। আত্মনির্ভর অভিযানে জাতীয় সুরক্ষা ও অর্থনীতি মজবুত হয়েছে।” বিদেশ নীতিতে ভারত যে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ মাথায় রেখেই চলে সেকথাও বলেন তিনি। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)