নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য, ‘কুকথা’ বলে বিতর্কে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। সমাজের বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এবার সেই ইস্যুতেই অনন্ত মহারাজকে কটাক্ষ করলেন কার্তিক মহারাজ। “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নখের যোগ্য আমরা নই।” সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, “কে অনন্ত মহারাজ?” জোর গলায় সেই প্রশ্ন তুলে খোঁচাও দিলেন।
আজ, শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে আর্য সমাজের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন কার্তিক মহারাজ। এদিন আর্য সমাজের সোনারপুর শাখার উদ্যোগে অখণ্ড ভারত ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। সেই যজ্ঞের শুভ সূচনা করেন কার্তিক মহারাজ। দেশ, ঐক্য ও নেতাজির আদর্শ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনন্ত মহারাজকে কটাক্ষ করেন। অনন্তের ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জোর গলায় কার্তিক মহারাজ বলেন, “কে অনন্ত মহারাজ?”
এদিন কার্তিক মহারাজ বলেন, “নেতাজির বিরাট জীবন। তাঁর তপস্যা, তাঁর সাধনা, যারা সমালোচনা করছেন, কিছুই জানেন না। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের সমালোচনা করা! তাঁর নখের যোগ্য আমরা নই। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয়। নেতাজি যখন এলগিন রোডের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছেন, আবার ফিরে গেলেন তাঁর ঘরে। তাঁর সর্বক্ষণের জপের মালা, মা চণ্ডীর মূর্তি ছেড়ে এসেছিলেন।” তিনি আরও বলেন, “পাপ বাপকে ছাড়বে না। কংগ্রেসের সময় তাঁকে বহিষ্কার করা হল। আর বামফ্রন্ট তোজোর কুকুর বলে রাস্তায় মিছিল করেছেন।”
অনন্ত মহারাজের ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য, ‘কুকথা’ নিয়ে জোর বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বঙ্গ বিজেপির তরফেও অনন্ত মহারাজের সমালোচনা চলছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের আমলে অনন্ত মহারাজকে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান বর্তমান বিজেপি সরকার কেড়ে নিয়েছে। সেই বঙ্গবিভূষণ সম্মান হাতছাড়া হওয়ার কয়েক ঘণ্টায় ভোলবদল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য সোশাল মিডিয়ায় দুঃখপ্রকাশ করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। বলেন, “নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্যে কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
ঠিক কী বলেছিলেন নগেন্দ্র রায় তথা অনন্ত মহারাজ? তিনি বলেন, “শুধু মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। আজ যদি আমি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিই, তাহলে আমাকে এনকাউন্টার করা হবে। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।”