এই সময়: বর্ষার ইঞ্জিনে ফের জোরালো গর্জন। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে পরপর নিম্নচাপ তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে আবহাওয়ার একাধিক মডেলে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে অগস্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সমুদ্রে একের পর এক বৃষ্টিবাহী সিস্টেম তৈরি হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষার দাপট বজায় থাকবে বলে আশাবাদী আবহবিদরা। ফলে দীর্ঘস্থায়ী কোনও ‘ব্রেক’ না এলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি কমার সম্ভাবনাও খুব বেশি।
‘ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্ট’ (ইসিএমডব্লিউএফ)-এর আবহাওয়া মডেল অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিনে মধ্য, পূর্ব ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি। বর্ষার ‘বৃষ্টির কারখানা’ হিসেবে পরিচিত বঙ্গোপসাগরে যে ভাবে পর পর নিম্নচাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়েছে ইসিএমডব্লিউএফ, তাতে দেশের মূল ভূখণ্ডে জলভরা মেঘের জোগানে কোনও সমস্যা হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।
সামনের দু’সপ্তাহে সমুদ্র এমন ভাবে সক্রিয় থাকায় বাংলা ছাড়াও ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একটি নিম্নচাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই নতুন সিস্টেম তৈরি হলে বর্ষার প্রবাহও সক্রিয় থাকবে। অগস্টের শেষ পর্যন্ত এমন প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনার কথা শুনিয়ে রেখেছে মডেলগুলো।
এ বারের বর্ষার শুরু থেকেই এল নিনিও–র প্রভাব থাকায় বর্ষার সক্রিয়তা নিয়ে প্রথম থেকেই চিন্তায় ছিলেন আবহবিদরা। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের জলস্তর স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হলে অর্থাৎ এল নিনিও পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতের বর্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে পরপর নিম্নচাপ তৈরি হলে সেই প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব। বর্ষার সক্রিয়তায় দীর্ঘ বিরতি (ব্রেক) না এলে মরশুমি বৃষ্টির ঘাটতিও কমবে।