• ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার নীল নকশা! লালকেল্লায় ‘শক্তির সপ্তধারা’ কর্মসূচির উল্লেখ মোদির
    প্রতিদিন | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • শনিবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লায় ভাষণ দেওয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথায় উঠে এল সাত দফা সংবলিত এক সংস্কার কর্মসূচির কথা। যাকে তিনি ‘শক্তির সপ্তধারা’ বলে উল্লেখ করেছেন। জানিয়েছেন, এই কর্মপরিকল্পনা ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। কী এই ‘সপ্তধারা’? জেনে নেওয়া যাক।

    মোদি যে সাতটি মূল ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলি হল উৎপাদন খাত, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতিশক্তি, রক্ষাশক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ‘সফট পাওয়ার’। উৎপাদন খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতীয় পণ্যগুলিকে গুণমান-উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার আহ্বান জানান। আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বমানের মানদণ্ড অর্জনের।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতকে তার পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া এবং সেগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্র্যান্ডে পরিণত করার উপরে গুরুত্ব দিতে হবে।

    তৃতীয় ক্ষেত্রটি হল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, যেখানে ডিজিটাল ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ভারতকে উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হতে হবে।

    ‘গতিশক্তি’ উদ্যোগের আওতায় সরকার দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ব্যবস্থার উপরে গুরুত্ব দেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, পঞ্চম ক্ষেত্র হল ‘রক্ষাশক্তি’। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতকে স্বনির্ভর করে তোলার ওপর আলোকপাত করেন তিনি। ড্রোন ও সুপারসনিক প্রযুক্তি-সহ অত্যাধুনিক বা পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপরে গুরুত্বও আরোপ করেন।

    ষষ্ঠ ক্ষেত্রটি হল সবুজ ও নীল অর্থনীতি। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    সপ্তম ক্ষেত্রটি ‘সফট পাওয়ার’ বা নমনীয় শক্তি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যোগ, আয়ুর্বেদ, সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা, সৃজনশীল শিল্প এবং পর্যটন খাতে ভারতের সক্ষমতা ও শক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

    এই সাতটি ক্ষেত্রকে ‘পাওয়ার অফ সেভেন’ বা ‘সাত শক্তির সমাহার’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সাত দফা কর্মসূচি পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার পথ আরও শক্তিশালী করবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)