এক দশক পরে ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় চিকিৎসা খরচের হার বদলের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার জারি হলো নির্দেশিকা। তাতে জানানো হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে নয়া রেট চালু হতে চলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে পুরনো হার চালু থাকায় চিকিৎসার প্রকৃত খরচের সঙ্গে হেলথ স্কিমে অনুমোদিত খরচের বড় ফারাক তৈরি হয়েছিল। সেই সমস্যা মেটাতেই এই পরিবর্তন বলে জানিয়েছে সরকার।
২০০৯-এ রাজ্য সরকারি কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার সুবিধা দিতে চালু হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম। প্রকল্পের আওতায় ২০০-র বেশি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।
২০১৪ সালে স্কিমে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। চালু হয়েছিল ক্যাশলেস ইন্ডোর চিকিৎসার সুবিধা। বর্তমানে এই প্রকল্পে ২.২৩ লক্ষের বেশি কর্মী এবং প্রায় ১.৩০ লক্ষ পেনশনভোগীর নাম রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। উপকৃত হয়েছেন প্রায় ১০.২৭ লক্ষ।
চিকিৎসার খরচের টাকা শহর ও হাসপাতালের ধরন অনুযায়ী আলাদা হবে। কলকাতা-সহ X বা Tier-I শহরে পুরো নির্ধারিত টাকা মিলবে। Y বা Tier-II শহরে তার থেকে ১০ শতাংশ কম এবং Z শ্রেণির এলাকায় ২০ শতাংশ কম টাকা অনুমোদন করা হবে। আসানসোল, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ি Y শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের ক্ষেত্রেও থাকছে শ্রেণিবিন্যাস। Class-I হাসপাতাল হলে শহরের নির্ধারিত হারের পুরো টাকাই মিলবে, কিন্তু Class-II হাসপাতালে মিলবে তার ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ কোন শহরে এবং কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে, তার উপরই সরকার কত টাকা দেবে তা নির্ভর করবে।
রাজ্য সরকার চিকিৎসার খরচের নতুন হার ঠিক করার সময় কেন্দ্রের CGHS-এর নতুন হারকে ভিত্তি হিসেবে ধরেছে। ২০২৫-এর অক্টোবরে কেন্দ্র CGHS-এর চিকিৎসার খরচের হার বদলেছিল। হাসপাতালের অ্যাক্রেডিটেশন, কোন শহরে হাসপাতালটি রয়েছে, কী ধরনের চিকিৎসা হচ্ছে এবং রোগী কোন ধরনের ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন—এই সবের ভিত্তিতে সেখানে চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করা হয়। এ বার সেই নিয়ম মেনেই WBHS-এর নতুন হার তৈরি করছে রাজ্য।
তবে কোনও চিকিৎসার ক্ষেত্রে পুরনো WBHS-এর হার যদি নতুন CGHS-এর হারের চেয়ে বেশি হয়, তা হলে কম হার কার্যকর হবে না। পুরোনো বেশি হারটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, রোগীর জন্য যে হার বেশি সুবিধাজনক, সেটাই প্রযোজ্য হবে।
২০২৩-এ WBHS-এর আওতায় বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসার সর্বোচ্চ সীমা ১.৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করা হয়েছিল। এ বার বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য সরকার যে টাকা দেয়, তার হারও বদলাতে চলেছে। ফলে চিকিৎসার আসল খরচ আর WBHS-এর দেওয়া টাকার মধ্যে ফারাক কমবে। সুরাহা হবে রোগীর। হাসপাতালের সঙ্গেও খরচ নিয়ে ঝামেলা কম হবে।
১. WBHS-এর নতুন চিকিৎসার হার কবে থেকে কার্যকর হবে?
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন হার কার্যকর হবে।
২. কেন চিকিৎসার খরচের হার বদলানো হচ্ছে?
দীর্ঘদিন পুরনো হার চালু থাকায় চিকিৎসার প্রকৃত খরচের সঙ্গে WBHS-এ অনুমোদিত খরচের বড় ফারাক তৈরি হয়েছিল। সেই ব্যবধান কমাতেই নতুন হার নির্ধারণ করা হচ্ছে।
৩. নতুন হার নির্ধারণে কোন নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে?
কেন্দ্রের সংশোধিত CGHS রেটকে ভিত্তি করে WBHS-এর নতুন হার তৈরি করা হয়েছে।
৪. সব শহরে কি একই হারে চিকিৎসার খরচ মিলবে?
না। শহরের শ্রেণি অনুযায়ী হার আলাদা হবে। X বা Tier-I শহরে ১০০%, Y বা Tier-II শহরে ৯০% এবং Z শ্রেণির এলাকায় ৮০% হারে টাকা অনুমোদন করা হবে।
৫. আসানসোল, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ি কোন শ্রেণিতে?
এই তিনটি শহর Y বা Tier-II শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। সেখানে নির্ধারিত হারের ৯০% পাওয়া যাবে।
৬. হাসপাতালের শ্রেণির উপরেও কি টাকার পরিমাণ নির্ভর করবে?
হ্যাঁ। Class-I হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট শহরের নির্ধারিত হারের পুরো টাকা মিলবে। Class-II হাসপাতালে মিলবে সেই হারের ৮০%।
৭. রোগী কী ভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন?
কোনও চিকিৎসার ক্ষেত্রে পুরনো WBHS হার যদি নতুন CGHS-ভিত্তিক হারের চেয়ে বেশি হয়, তা হলে পুরনো বেশি হারই বহাল থাকবে। ফলে কম সুবিধাজনক হার চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
৮. WBHS কবে চালু হয়েছিল?
২০০৯ সালে রাজ্য সরকারি কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার সুবিধার জন্য এই প্রকল্প চালু হয়।
৯. WBHS-এ কত জন উপভোক্তা রয়েছেন?
বর্তমানে ২.২৩ লক্ষের বেশি কর্মী এবং প্রায় ১.৩০ লক্ষ পেনশনভোগী নথিভুক্ত রয়েছেন। মোট উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ১০.২৭ লক্ষ।
১০. WBHS-এ কতগুলি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে?
প্রকল্পের আওতায় ২০০-র বেশি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।
১১. WBHS-এর ক্যাশলেস চিকিৎসার সীমা কত?
২০২৩ সালে বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসার সর্বোচ্চ সীমা ১.৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করা হয়েছিল।
১২. নতুন হারে রোগীদের কী সুবিধা হবে?
চিকিৎসার প্রকৃত খরচ এবং WBHS-এ অনুমোদিত টাকার মধ্যে ফারাক কমবে। ফলে রোগীর অতিরিক্ত খরচের চাপ কমতে পারে এবং হাসপাতালের সঙ্গে বিল মেটানো নিয়েও জটিলতা কমবে।