• ‘সপ্তধারা’ কী? লালকেল্লা থেকে সাত পথে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা দিলেন মোদী
    এই সময় | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে বিকশিত ভারতের স্বপ্নের বীজ পুঁতে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পথ দেখাবে ‘সপ্তধারা’। মোদীর নিজের কথায়, ‘শক্তি কি সপ্তধারা’। দেশের উন্নয়নের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে তুলে ধরেছেন তিনি।

    ‘সপ্তধারা’ শব্দের অর্থ সাতটি ধারা বা স্রোত। ভারতীয় সংস্কৃতিতে সাত সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন রয়েছে সপ্তর্ষি, সপ্তসিন্ধু বা সাতটি পবিত্র নদীর উল্লেখ। মোদীও তাঁর বক্তব্যে ‘সপ্তসিন্ধু’-র প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে ‘সপ্তধারা’র যোগ তৈরি করেছেন।

    মোদীর বক্তব্যের মূল ভাবনা হলো, এক সময়ে ভারতের শক্তির প্রতীক ছিল সাত নদী। এখন দেশের শক্তি বাড়াতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই সাতটি ক্ষেত্র হলো—উৎপাদন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতি শক্তি, প্রতিরক্ষা শক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ভারতের সফট পাওয়ার।

    প্রথমেই রয়েছে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং। ভারতকে শুধু বিদেশি পণ্যের বড় বাজার হিসেবে নয়, বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে ভারতীয় পণ্যের দাম কমাতে হবে, ভালো হতে হবে গুণমানে। এর সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে হবে। যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য—পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করার কথা বলেছেন তিনি।

    দ্বিতীয় ক্ষেত্রে রয়েছে কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। শুধু ফসল ফলালেই হবে না, সেই পণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দিতে হবে। বাজরা, মশলা, ফল, সব্জি-সহ ভারতীয় কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার উপর জোর দিয়েছেন মোদী। কৃষকদের আয় বাড়াতে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে আরও বেশি মূল্য যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে এই পরিকল্পনায়।

    তৃতীয় ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবন। UPI এবং ডিজিটাল পরিষেবায় ভারতের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মোদী বলেছেন, ‘এ বার আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে এগোতে হবে।’ ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং দেশে তৈরি ৬জি-র মতো ক্ষেত্রে কাজ বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। অর্থাৎ শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, ভারতেও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করে তা বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।

    চতুর্থ ধারা গতি শক্তি। এর মূল কথা হলো দ্রুত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাইস্পিড রেল, রাস্তা, বিমানবন্দর, বন্দর, জলপথ এবং মাল্টিমোডাল পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষ ও পণ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে চাইছে সরকার। এর সঙ্গে দেশের বন্দরগুলিকে শুধু পণ্য ওঠানো-নামানোর জায়গা হিসেবে না দেখে বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    পঞ্চম ধারা হল প্রতিরক্ষা। অস্ত্রশস্ত্রে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির মধ্যে দিয়ে ভারতকে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন মোদী।

    ষষ্ঠ ধারা হল সবুজ ও নীল অর্থনীতি। এতে পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন—দুই বিষয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদকেও কাজে লাগাতে চায় সরকার। মৎস্য, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং উপকূলীয় পর্যটনও এর আওতায় রয়েছে।

    সপ্তম এবং শেষ ধারা হলো ভারতের সফট পাওয়ার। অর্থাৎ ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতাকেও দেশের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চান মোদী। যোগ, হস্তশিল্প, সিনেমা, অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং পর্যটনের মতো ক্ষেত্রকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কথা বলেছেন তিনি। এর মধ্যে দিয়ে শুধু ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাব বাড়বে তাই নয়, নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

    ‘সপ্তধারা’ বলতে কী বোঝালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী?

    ‘সপ্তধারা’ বলতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের ক্ষেত্রকে বোঝানো হয়েছে। এই সাত ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘সপ্তধারা’-র সাতটি ক্ষেত্র কী কী?

    উৎপাদন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতি শক্তি, প্রতিরক্ষা শক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ভারতের সফট পাওয়ার।

    ‘সপ্তধারা’ নামটি কেন?

    ‘সপ্ত’ অর্থ সাত এবং ‘ধারা’ অর্থ স্রোত বা প্রবাহ। মোদী ‘সপ্তসিন্ধু’-র প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, এক সময়ে ভারতের শক্তির প্রতীক ছিল সাত নদী। এখন দেশের উন্নয়নের জন্য সাতটি নতুন শক্তির ধারাকে সামনে আনা হচ্ছে।

    উৎপাদন ক্ষেত্রে মোদীর লক্ষ্য কী?

    ভারতকে শুধু বড় বাজার নয়, বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কম খরচে, উন্নত মানের এবং বেশি পরিমাণে পণ্য উৎপাদনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে কীসের উপর জোর?

    শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদন নয়, সেগুলিকে প্রক্রিয়াজাত করে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাজরা, মশলা, ফল ও সব্জির মতো ভারতীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরতে চায় সরকার।

    প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

    ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, নতুন প্রযুক্তি এবং দেশে তৈরি ৬জি-র মতো ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হবে। লক্ষ্য, ভারতকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, প্রযুক্তি তৈরির দেশ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করা।

    ‘গতি শক্তি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    দ্রুত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। রেল, সড়ক, বিমানবন্দর, বন্দর, জলপথ এবং মাল্টিমোডাল পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে মানুষ ও পণ্য দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেওয়াই এর লক্ষ্য।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘সপ্তধারা’-র লক্ষ্য কী?

    প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির জন্য বিদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদন বাড়ানো। পাশাপাশি ভারতকে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

    সবুজ ও নীল অর্থনীতি বলতে কী বোঝায়?

    সবুজ অর্থনীতির ক্ষেত্রে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন ও শক্তি সংরক্ষণে জোর দেওয়া হবে। নীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে সমুদ্র, উপকূল, মৎস্য, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও উপকূলীয় পর্যটনের মতো ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    ভারতের সফট পাওয়ারের মধ্যে কী কী রয়েছে?

    যোগ, হস্তশিল্প, সিনেমা, অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, ডিজিটাল কনটেন্ট ও পর্যটনের মতো ক্ষেত্রকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কথা বলেছেন মোদী। এর মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাবের পাশাপাশি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)