• শিকড় ছড়িয়ে কাঠমাণ্ডু-ইসলামাবাদে! ভারতীয় সিমে হানিট্র্যাপ, বাংলায় ধৃত ৩ পাকচর কীভাবে চালাত ‘অপারেশন’?
    প্রতিদিন | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • বেআইনি নথিপত্রে তোলা হত ভারতীয় সিমকার্ড। সেই সিমকার্ড হাত ঘুরে নেপাল হয়ে চলে যেত পাকিস্তানে। সেই সিমকার্ডগুলি কাজে লাগিয়ে চালানো হত হানিট্র্যাপ। দেওয়া হত নাশকতার হুমকি। বাংলায় ধৃত ৩ পাক গুপ্তচরকে জেরা করে এমনই বিস্ফোরক তথ্য পেলেন তদন্তকারীরা। কলকাতা পুলিশের এসটিএফ ও রাজ্য পুলিশের এসটিএফ যৌথভাবে তাদের গ্রেপ্তার করে।

    পাকচর সন্দেহে ধৃতেরা হল মহম্মদ শফিকুল ইসলাম, নুর নাসিরুদ্দিন আলি এবং রাশিদুল ইসলাম। ধৃতদের বিরুদ্ধে গরুপাচার, জালনোট পাচারের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
    জানা গিয়েছে, ধৃত মহম্মদ শফিকুল ইসলাম উত্তর দিনাজপুরের পাঞ্জিপাড়ার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, গরুপাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে সে। ধৃত জানায়, বাংলাদেশি যুবক আকবর ওরফে সম্রাটের সঙ্গে আলাপ হয় তার। সে আকবরকে একটি সিমকার্ড দেয়। জানা গিয়েছে, ওই সিমকার্ডটি পাকিস্তানেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওই সিমকার্ডের মাধ্যমে আকবর আবার রশিদুল হক, প্রদীপ্ত বসু, বিশাল ওরফে কাঞ্চন নামে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলত বলেই খবর। যে মোবাইলটিতে সিমটি লাগানো ছিল, সেখানে জালনোটের বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও পাওয়া গিয়েছে।

    পাকচর সন্দেহে ধৃত নুর নাসিরুদ্দিন আলি, কোচবিহারের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ওই যুবক গরুপাচার সংক্রান্ত মামলায় যুক্ত ছিল। তারও আকবর ওরফে সম্রাটের সঙ্গে আলাপ হয়। আকবরের অনুরোধে দু’টি ভারতীয় সিমকার্ড দিয়েছিল সে। নিজের পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সেগুলি বাংলাদেশে পাঠায়। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, গত ২০১৮ সালে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে গিয়েছিল সে। নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে ভারত-পাকিস্তানে সিমকার্ড পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগসাজশও পাওয়া গিয়েছে। আবার ধৃত রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও নানা গুরুতর অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, সিমকার্ড এবং নোটপাচারের মত কুকর্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।

    তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নাজিরহাট এবং নয়ারহাট সীমান্ত এলাকায় গত ২০২৩ সাল থেকে প্রায় বছর দুয়েক নোটপাচার করত সে। রাশিদুলের মোবাইল ঘেঁটে দাদা, হায়দার এবং বিশাল ওরফে কাঞ্চন নামে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। শুধু তাই নয় আকবর নামে ওই বাংলাদেশি যুবক তাকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা প্রদীপ্ত বসুর মাধ্যমে নাসিরুদ্দিনের কাছে পাঠিয়েছিল বলেই খবর। প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করে নতুন নতুন নাম উঠে আসা ব্যক্তিদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে বলেই আশা তদন্তকারীদের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)