সরকারি স্বাস্থ্য বিমায় বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাজ্য, নয়া হারে চিকিৎসার খরচ পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মী-পেনশনভোগীরা
প্রতিদিন | ১৫ আগস্ট ২০২৬
রাজ্যের সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য সুখবর! তাঁদের চিকিৎসার খাতের স্কিমে বরাদ্দ বাড়াল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যাঁরা ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের অধীনে রয়েছেন, তাঁরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হারে চিকিৎসা খরচ পাবেন।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা পরিষেবার হার সংশোধন করা হল। অর্থদপ্তরের মেডিক্যাল সেল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ কথা জানিয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের অধীনে অনুমোদিত চিকিৎসা খরচের হার তুলনামূলক কম থাকায় কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা চিকিৎসা করাতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের হার অনুসরণ করে এবার চিকিৎসার জন্য নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই স্কিমের অধীনে তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিকে ৩টি টিয়ারে ভাগ করা হয়েছে। কলকাতা মহানগরের হাসপাতালগুলি রয়েছে টিয়ার-১। আসানসোল, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলি টিয়ার-২। রাজ্যের বাকি অংশের হাসপাতালগুলি টিয়ার-৩তে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টিয়ার-২ এলাকার হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার অনুমোদিত হার টিয়ার-১ এলাকার তুলনায় ১০ শতাংশ কম হবে। অর্থাৎ কলকাতা এলাকায় চিকিৎসা করালে দশ শতাংশ টাকা বেশি পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। অন্যদিকে, টিয়ার-৩ এলাকার ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ কম হবে।
এ ছাড়াও ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের অধীনে বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ইমপ্ল্যান্টের খরচ নির্ধারণে সেন্ট্রাল গর্ভমেন্ট হেলথ স্কিমের সর্বশেষ হার গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকেও প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। তবে টাটা মেডিক্যাল সেন্টার, চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট (সিএনসিআই) এবং এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে নতুন হার কার্যকর হবে না বলে জানানো হয়েছে। এই হাসপাতালগুলিতে আগের হারেই টাকা মিলবে।
ছোট-মাঝারি নার্সিংহোমের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম’- নয়া উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। সম্পাদক ডা. রাজীব পাণ্ডে জানিয়েছেন, এতদিন ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমে আর্থিক বরাদ্দ কম থাকায় এবং চিকিৎসা পরিষেবার খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। এর ফলে বহু হাসপাতালের পক্ষে পুরনো রেটে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে রোগী ভর্তির ক্ষেত্রেও অনীহা তৈরি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার অতি অল্প সময়ের মধ্যে প্যাকেজ রেট সংশোধন ও বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সেন্ট্রাল গর্ভমেন্ট হেলথ স্কিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।