• মাটির নীচে HPCL-এর পাইপলাইনে সিঁধ, ২০ টন ক্রুড অয়েল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮
    এই সময় | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • রাস্তার ধারে ফাঁকা জমি। বাইরে থেকে দেখলে কিছু বোঝার উপায় নেই। তার কয়েক ফুট নীচ দিয়ে চলে গিয়েছে HPCL-এর অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইন। সেই পাইপলাইনেই সিঁধ কেটে ২০ টন তেল চুরির অভিযোগে আট জনকে গ্রেপ্তার করল গুজরাত ATS এবং রাজস্থান পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েক জনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছোটখাটো চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

    পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেদাবাদ-রাজকোট হাইওয়ের কাছে কয়েক জন অপরিশোধিত চোরাই তেল বিক্রির চেষ্টা করছে বলে খবর আসে। তার পরেই তদন্তে নামে গুজরাত ATS। তল্লাশিতে রাজকোটের সোখদা গ্রাম থেকে এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জেরা করতেই কার্যত চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। হদিশ মেলে গোটা চক্রের। জানা যায়, সবার নাকের ডগা দিয়ে কী ভাবে দিনের পর দিন তেল চুরির কারবার চলছিল। এর পরে রাজস্থানের বালোত্রার তাপরা গ্রাম থেকে আরও সাত জনকে গ্রেপ্তার করে ATS।

    তদন্তকারীদের দাবি, বালোত্রার কালুদি গ্রামের সীমানায় একটি ফাঁকা জায়গা বেছে নিয়েছিল অভিযুক্তরা। সেখানেই মাটির প্রায় তিন-চার ফুট নীচে রয়েছে HPCL-এর ক্রুড অয়েল পাইপলাইন। অভিযোগ, মাটিতে গর্ত করে পাইপলাইনের একটি নির্দিষ্ট জায়গা খুঁজে বের করা হয়। তার পরে সেখানে ফুটো করে বসানো হয় ভালভ। ব্যস, কাজ শেষ। এ বার ইচ্ছা মতো তেল বের করতে আর কোনও অসুবিধা নেই। শুরু হলো চুরি।

    কিন্তু প্রশ্ন হল, এত নিখুঁত ভাবে মাটির নীচের পাইপলাইনের অবস্থান জানল কী ভাবে অভিযুক্তরা? তদন্তে উঠে এসেছে সেই চমকপ্রদ তথ্যও। পরিচিত মারফত পাইপলাইনের সব খবরাখবর জোগাড় করে অভিযুক্তরা। তার পরেই জায়গা চিহ্নিত করা হয়। তেল বের করে গাড়িতে করে ভরে নিয়ে যাওয়া হতো। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ টন ক্রুড অয়েল চুরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। রাজস্থানের বেওয়ারের এক বাসিন্দার কাছে সেই তেল বিক্রির চেষ্টা করছিল চক্রটি। ঠিক তখনই তদন্তকারী সংস্থার কাছে খবর পৌঁছে যায়। তার পরেই শুরু হয় অভিযান।

    ধৃতদের বিরুদ্ধে রাজস্থানের জাসোল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার চুরি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে মামলা দায়ের হয়েছে। সঙ্গে Acquisition of Right of User in Land Act, 1962 এবং Prevention of Damage to Public Works Act-এর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    প্রশ্ন: কত টন ক্রুড অয়েল চুরির অভিযোগ উঠেছে?

    উত্তর: প্রায় ২০ টন ক্রুড অয়েল চুরির অভিযোগ উঠেছে।

    প্রশ্ন: ঘটনায় কত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

    উত্তর: গুজরাত ATS এবং রাজস্থান পুলিশ মোট আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    প্রশ্ন: কোথা থেকে তেল চুরি করা হয়েছিল?

    উত্তর: রাজস্থানের বালোত্রা জেলার কালুদি গ্রামের কাছে মাটির নীচে থাকা HPCL-এর ক্রুড অয়েল পাইপলাইন থেকে তেল চুরির অভিযোগ উঠেছে।

    প্রশ্ন: কী ভাবে তেল চুরি করা হয়েছিল?

    উত্তর: মাটির প্রায় তিন-চার ফুট নীচে থাকা পাইপলাইনে ফুটো করে একটি ভালভ বসানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই ভালভের মাধ্যমে তেল বের করে নেওয়া হতো।

    প্রশ্ন: চোরাই তেল কোথায় বিক্রি করা হচ্ছিল?

    উত্তর: রাজস্থানের বেওয়ারের এক বাসিন্দার কাছে চোরাই তেল বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    প্রশ্ন: আর কেউ এই চক্রে জড়িত কি না?

    উত্তর: আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

  • Link to this news (এই সময়)