• স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ গানকে অপমান সনিয়া গান্ধীর? BJP-র অভিযোগে কড়া জবাব কংগ্রেসের
    এই সময় | ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • দিল্লিতে কংগ্রেস হেড কোয়ার্টারে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়ে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ গাইতে বাধা দিয়েছিলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী? শনিবার পতাকা উত্তোলনের সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপি ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তুলে অপপ্রচার করছে বলে বিবৃতি দিয়েছে কংগ্রেস।

    কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের একটি ভিডিয়ো ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন বিজেপির একাধিক নেতৃত্ব। তাঁরা দাবি করেন, ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার সময়ে সনিয়া গান্ধীকে অস্বস্তিতে দেখা গিয়েছে এবং তিনি জাতীয় গানটি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। বিজেপির দাবি, ভিডিয়োতে সনিয়া গান্ধীকে খাড়্গের সঙ্গে কথা বলতে এবং গানটি থামানোর ইশারা করতে দেখা গিয়েছে।

    বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গোপাল কৃষ্ণ আগরওয়াল একে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘জাতীয় গান সম্পর্কে এই ধরনের মনোভাব কংগ্রেসের মানসিকতাকে প্রকাশ করে। এটি কেবল একটি গান নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতীয় চেতনার প্রতীক।’ বিজেপির এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়, ‘বন্দে মাতরম-এর শুরুর কয়েকটি পঙক্তি গাওয়ার পরেই সনিয়া গান্ধী অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন এবং গানটি থামানোর ইঙ্গিত দেন। গানটি চলার সময়ে এবং এমনকী জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার পরেও রাহুল গান্ধীকেও অস্বস্তিবোধ করতে দেখা যায়। আসলে এটিই কংগ্রেস দলের সেই পুরোনো দ্বিধা—ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনা, সভ্যতার ঐতিহ্য এবং জাতীয় আবেগের বিষয়ে গান্ধী পরিবার কেন এত অস্বস্তি বোধ করে?’

    বিজেপির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। ভিডিয়ো নিয়ে বিতর্ক হতেই কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, ভিডিয়ো দেখিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন ও মনগড়া। জয়রাম বলেন, ‘মল্লিকার্জুন খাড়্গে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সনিয়া গান্ধী কেবল তাঁর জন্য একটি চেয়ার আনার বিষয়েই কথা বলছিলেন।’

    জাতীয় গানের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে জয়রাম রমেশ আরও জানান, ১৯৩৭ সালের ২৮ অক্টোবর কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে কংগ্রেসের প্রতিটি অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম্’-এর প্রথম স্তম্ভগুলি গাওয়া হবে। সেই ঐতিহ্য মেনেই সেবা দল এবং দলীয় কর্মীরা এখনও গানটি গেয়ে থাকেন। আজ পুরো জাতীয় গানটিই সেখানে গাওয়া হয়েছে এবং তা থামানোর কোনও চেষ্টা করা হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)