পুলিশের উপরে হামলা-সহ তোলাবাজি, গুন্ডামির মতো একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হাওড়া পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ শ্যামল মিত্র। শুক্রবার গভীর রাতে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা ইকো পার্ক এলাকা থেকে শ্যামলকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার হাওড়া আদালতে তোলা হয় তাঁকে। কোর্টে তোলার সময়ে শিবপুর থানা এলাকায় আক্রোশের মুখে পড়তে হয় শ্যামলকে। প্রথমে ডিম ছুড়ে মারা হয়। ধাক্কাধাক্কিও করা হয়। পুলিশ কোনও ভাবে তাঁকে গাড়িতে তুলে কোর্টের উদ্দেশে রওনা দেয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে গণনার দিন শ্যামল মিত্রের নেতৃত্বে গোলমাল পাকান তৃণমূল কর্মীরা। হাওড়া ময়দানে যোগেশচন্দ্র গার্লস স্কুলের গণনা কেন্দ্রের বাইরে তিনি ৪০০ থেকে ৫০০ জন তৃণমূল কর্মীকে জড়ো করেন। তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা পুলিশ কর্মীদের উপরে হামলা চালান বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহতও হন। যদিও শ্যামলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কারণ, কোনও মতে জনরোষ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠতে তৎপর ছিলেন তিনি।
এ ছাড়াও গত ১০ মে শিবপুরের মন্দিরতলায় বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে বিজেপি কর্মীরা যখন বৈঠক করছিলেন, সেই সময়ে শ্যামলের লোকেরা বিজেপি কর্মীদের উপরে হামলা চালান বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, এক বিজেপি কর্মীর থেকে ৩০ হাজার টাকা কেড়েও নেন বলে অভিযোগ।
এর পাশাপাশি ১৫ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেন বলেও অভিযোগ। শিবপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শ্যামলের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধরের ধারায় মামলা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উধাও হয়ে যান শ্যামল। শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতার ইকো পার্ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা।