পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেফতারির নিয়ে মুখ খুললেন রত্না দেবনাথ। নির্মলকে শুক্রবার আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তার পরের দিন শনিবার এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে পানিহাটির বিধায়ক বলেন, অন্যায় করলে অভিযুক্তেরা আইনের পথেই শাস্তি পাবেন। কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেন।
আরজি কর নির্যাতিতার মা নির্মলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের শাস্তি হওয়া দরকার। একই সঙ্গে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে পানিহাটিতে আরও একাধিক অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি।
নির্মল ঘোষের গ্রেফতারি নিয়ে কী বললেন রত্না?
শনিবার নির্মল ঘোষকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রত্না দেবনাথ বলেন, অন্যায় যাঁরা করেছেন, তাঁরা একে একে ধরা পড়বেন। পুলিশ এবং প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘অপরাধীদের সবার ফাঁসি চাই’
নির্মল ঘোষের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রত্না। তাঁর দাবি, আরজি কর-কাণ্ডে যাঁরা অপরাধ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, অপরাধীদের সবার ফাঁসি চান তিনি। শুধু জেল হেফাজতে রাখলেই হবে না বলেও মন্তব্য করেন রত্না।
নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ
শুধু আরজি কর-কাণ্ডের প্রসঙ্গ নয়, নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে পানিহাটিকে ঘিরে আরও অভিযোগ তোলেন রত্না।
তাঁর অভিযোগ, পানিহাটির বিভিন্ন জায়গায় পুকুর ভরাট-সহ নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। পানিহাটিকে ‘বিক্রি করে দেওয়ার’ অভিযোগও করেন তিনি।
রত্নার দাবি, আগের মুখ্যমন্ত্রীকে বার বার বিষয়গুলি জানানো হলেও তখন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কী অভিযোগে গ্রেফতার নির্মল?
আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে নির্মল ঘোষের নাম নতুন করে সামনে আসে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, মৃতদেহ দ্রুত সৎকার করে প্রমাণ লোপাটের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ওড়িশা থেকে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়। তার পর তাঁকে রাজ্যে এনে আদালতে পেশ করা হয়।
শুক্রবার আদালতে পেশ করার পর নির্মলকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তে আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সে দিকেই নজর।
আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় কী হয়েছিল?
শুক্রবার নির্মল ঘোষকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। থানা থেকে বেরনোর পরই তাঁকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ নির্মলের দিকে ডিম এবং কাদা ছোড়েন বলে জানা যায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁকে মারধর করার অভিযোগও ওঠে।
হেলমেট পরে ছিলেন নির্মল। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাননি বলে জানা যায়। তাঁকে ঘিরে চিৎকার-বিক্ষোভের পাশাপাশি চড়-লাথি চলার অভিযোগও ওঠে। পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যেই কোনও মতে তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এখন নজর রয়েছে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশের দিকে। পাশাপাশি পানিহাটিতে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ নিয়েও ভবিষ্যতে কোনও তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।