পহেলগাঁও হামলার পর প্রথম কী বলেছিলেন মোদি? বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন ডোভাল
প্রতিদিন | ১৬ আগস্ট ২০২৬
স্মরণাতীত কালে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গিহানার মধ্যে অন্যতম পহেলগাঁও হামলা। গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃশংস হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ধর্ম চিহ্নিত করে হত্যা করা হয় ২৬ জনকে। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকে যতটা বিচলিত করেছিল, তার চেয়েও বেশি বিচলিত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। ওই হামলার ঘটনা জানার পর প্রধানমন্ত্রীর কী প্রতিক্রিয়া ছিল, প্রায় দেড়বছর পর ফাঁস করলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তৈরি একটি ডকুমেন্টারিতে অজিত ডোভালের সাক্ষাৎকার দেখানো হয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারে ডোভাল জানিয়েছেন, পহেলগাঁও হামলা যখন হল তখন প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে ছিলেন। সেখানেই তাঁকে ওই নৃশংস জঙ্গি হানার তথ্য দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে সফরে কাটছাঁট করে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরেই ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেন। বিদেশ সচিব তাঁকে বিমানবন্দরে আনতে যান। তারপর বিমানবন্দরেই আমাদের বৈঠক হয়। সবার আগে প্রধানমন্ত্রী পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানতে চান। তারপরই আমার কাছে প্রথম যে প্রশ্নটি করলেন সেটা হল, কারা ঘটিয়েছে।” ডোভালের কথায়, “আমাকে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, কে করেছে? কে দায়ী? আমি অপরাধীদের সব তথ্য এখনই চাই।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কথায়, “গোটা বিশ্বের কাছে বার্তাটা পরিষ্কার। আমরা বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলাম ভারতের উদারতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে। ভারত পালটা মারতে জানে, ভারত ঝুঁকি নিতে জানে। ফলাফল যাই হোক।” ডোভাল বলছেন, “অপারেশন সিঁদুরেই পাক সেনা স্পষ্ট বুঝে গিয়েছে ওদের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়াটা ভারত আর বরদাস্ত করবে না।”
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার পালটা ৭ মে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতের সেনাবাহিনী। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় সেনা। এই অভিযানে খতম হয় শতাধিক কুখ্যাত জঙ্গি। ভারতের হামলার পর যুদ্ধ শুরু হয় দু’দেশের। পাক হামলার জবাবে ভারত গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তানের ১৪টি সামরিক ঘাঁটি। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পাকিস্তানের তরফে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভারতও সেই প্রস্তাব মেনে নেয়। তবে যুদ্ধ থামলেও তদন্তের গতি থামেনি।