সম্প্রীতির ভারত, স্বাধীনতা দিবসে ডোমকলের মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন বেলুড়ের মহারাজের!
প্রতিদিন | ১৬ আগস্ট ২০২৬
স্বাধীনতা দিবসে সম্প্রীতির বার্তা ডোমকলের মাদ্রাসায়। অনন্য নজির তৈরি হল বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার জেলায়। পড়ুয়া, শিক্ষকদের মধ্যে আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলুড় মঠের সন্ন্যাসী স্বামী পরমানন্দ মহারাজ। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের বার্তা দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনা যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন স্বাধীনতাব দিবসে ৪৮০ ফুটের জাতীয় পতাকা নিয়ে শহরে সম্প্রীতির মিছিল হয়। এলাকার মানুষজন ওই মিছিল ও অনুষ্ঠানে সামিল হন।
স্বাধীনতা দিবসে সম্প্রীতির অনন্য নজির তৈরি হল ডোমকলে। জামিয়া আরাবিয়া বাহরুল উলুম মাদ্রাসার উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন বেলুড় মঠের সন্ন্যাসী স্বামী পরমানন্দ মহারাজ। তাঁর উপস্থিতিতে মাদ্রাসার পড়ুয়া, অভিভাবক ও উপস্থিত সকলের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। এদিন পতাকা উত্তোলনের পর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উষ্ণ অভ্যর্থনায় অভিভূত হয়ে স্বামী পরমানন্দ মহারাজ বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকায় এত সুন্দর মাদ্রাসা এবং এত বাচ্চাকে পড়াশোনা করতে দেখে ভালো লাগল।”
এদিন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান ছাড়াও ৪৮০ ফুটের জাতীয় পতাকা নিয়ে ডোমকল শহরে একটি সম্প্রীতি মিছিল বের হয়। মিছিলে মৌলানা, মাদ্রাসার পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পা মেলান স্বামী পরমানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ যে আদর্শ চেয়েছিলেন, তার প্রতিফলন এই মাদ্রাসায় রয়েছে। আমরা চাই, এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও গড়ে উঠুক। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি জ্ঞান ও আদর্শের শিক্ষাও দেওয়া হয়।” সম্প্রীতি ও শিক্ষার গুরুত্ব ফুটে ওঠে তাঁর বক্তব্যে। মহারাজ আরও বলেন, “মাদ্রাসায় আধ্যাত্মিকতা ও সাধন-ভজনের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা অন্যত্র দেখা যায় না। এই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শিক্ষা জগৎ আরও বড় হবে। মানুষ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।”
অনুষ্ঠানে স্বামী পরমানন্দ মহারাজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া ইমাম মোয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌলানা মোজাফ্ফর খান, সম্পাদক মৌলানা আব্দুর রাজ্জাক-সহ বিশিষ্টজনেরা। সাধারণ মানুষজনও এদিন সামিল হয়েছিলেন অনুষ্ঠানে।