আগস্ট দেশ স্বাধীন হওয়ায় যেমন ক্যালেন্ডারের পাতায় তা ‘রেড লেটার ডে’, তেমনই আরও এক কারণে এই দিনটি স্মরণীয়। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী ঋষি অরবিন্দর জন্মদিন। এতদিন এই মনীষী স্মরণে তেমন কোনও উদযাপন হতো না। কিন্তু বদলের বাংলায় জাতীয়তাবাদী নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার রীতি বর্তমান। এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। শনিবার সকালে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী চলে যান শেক্সপিয়র সরণিতে, ঋষি অরবিন্দের বাসভবনে। সেখানে তাঁর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সংক্ষিপ্ত ভাষণে তুলে ধরেন আজকের দিনে জাতীয়তাবাদী এই নেতার গুরুত্ব। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ করে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীকে।
ঋষি অরবিন্দের জীবনচর্চার থেকেও তাঁর যোগাভ্যাস বিশেষভাবে আলোচিত। তাঁর হাত ধরে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে অনেকাংশে যোগচর্চার অভ্যাস করেছিলেন। তা তাঁদের বাড়তি শক্তি জোগাত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরচর্চায় ভারতের সেই আদি রাস্তাই ভুলতে বসেছিল জনগণ। কিন্তু কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার ফের সেই যোগচর্চার বিষয়টি ফিরিয়ে এনেছে। প্রতি বছর ২১ জুন দেশে মহাসমারোহে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’। এক্ষেত্রে তাদের সামনে অন্যতম পথপ্রদর্শক ঋষি অরবিন্দ। আজ, তাঁর জন্মদিনে সেই কথাই মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘মোদিজিকে বিশেষ করে ধন্যবাদ। ঋষি অরবিন্দের যোগচর্চার কথা ভুলে গিয়েছিল সবাই। উনি সেই অভ্যাস ফিরিয়ে এনেছেন। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস দেশজুড়ে পালিত হয়। আমি মনে করি, ঋষি অরবিন্দের জীবনী আরও বেশি চর্চা হোক। এই যে তাঁর বাড়ি, এটা হেরিটেজ ভবন। এর রক্ষণাবেক্ষণ আমাদেরই দায়িত্ব।”
এদিন ঋষি অরবিন্দের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিগত সরকারকে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘গত ১৫ বছরে আজকের দিনে এ বাড়িতে সরকারের কেউ আসেনি। আমি এনিয়ে বেশি কিছু বলতে পারি না, কিন্তু ব্যাপারটা বেশ দৃষ্টিকটূ। এর আগে আমার কখনও এখানে আসার সুযোগ হয়নি। আজ আসতে পেরে ধন্য মনে করছি। এই বাড়িটি যাঁরা রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তাঁরা আমাকে বেশ সমাদর করেছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।” এদিন অরবিন্দের বাসভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু বই।