রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই জায়গায় জায়গায় ডিম থেরাপির ছবি সামনে এসেছে। দুর্নীতি, তোলাবাজি ইস্যুতে বিদ্ধ তৃণমূলের নেতারা অনেকেই জেলে, অনেকেই পলাতক। প্রথমে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। তারপর একাধিক নেতাকে ঘিরে ধরে ডিম মারা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। রাস্তায় ঘিরে ধরে তৃণমূল নেতাদের কার্যত ডিম দিয়ে স্নানও করানো হচ্ছে! যা নিয়ে একাধিকবার বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এরপরেও বদল হচ্ছে না পরিস্থিতির। এবার ডিম থেরাপির ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে বার্তা দিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি। শনিবার সকালে মমতাপন্থী নেত্রী উপাসনা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। আশুতোষ কলেজে জনরোষের শিকার হতে হয় তাঁকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিতর্ক। এরপরই এবিভিপির তরফে এক বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের ঘটনায় কেউ এবিভিপির যুক্ত নয়। তবে খবরে আসার জন্যেই এহেন চিত্রনাট্য তৈরি করা হয় বলেও ‘কালীঘাট’ তৃণমূলের এই যুবনেত্রীকে তোপ আরএসএসের ছাত্র সংগঠনের।
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপির কেন্দ্রীয় সদস্য শুভব্রত অধিকারী এক বার্তায় জানিয়েছেন, ‘এবিভিপি এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। সাধারণ ছাত্রীরা কেউ ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে এবিভিপির কেউ যুক্ত নয়।’ তাঁর দাবি, উপাসনা চৌধুরী পরিকল্পিতভাবে খবরে আসার জন্য এই ধরনের একটা চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে অনেককে মিথ্যে শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলেও অভিযোগ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই প্রথম রাজ্যে একের পর এক ‘ডিম থেরাপি’র ঘটনায় মুখ খুলল এবিভিপি।
বলে রাখা প্রয়োজন, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের সকালে দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরী ও অন্যান্যরা। কালীঘাটপন্থী টিএমসিপির সভানেত্রীও তিনি। আশুতোষ কলেজে জাতীয় পতাকা তুলতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু কলেজের কোনও পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁদের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসাররা তাঁদের সামনে ভিড় করতে বারণ করেন। যা নিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। সেই সময় উপাসনাদের লক্ষ্য করে উপাসনাকে ডিম ছোড়া বলে অভিযোগ।