• নেতাজি অবমাননায় কোচবিহারে অনন্তর নামে এফআইআর
    বর্তমান | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও কোচবিহার: রাষ্ট্রনেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজের অবমাননায় ফুঁসছে আপামর বাঙালি। বাঙালির আহত আবেগকে মর্যাদা দিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকারও। এই আবর্তে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভিডিয়ো বার্তায় নেতাজি সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাইলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। তবে তাতেও রেহাই মিলল না। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) জামিন অযোগ্য তিনটি ধারায় অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে শুক্রবার মামলা শুরু করল কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও সাফ বক্তব্য, ‘ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন অনন্ত মহারাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ক্ষমা চেয়েছেন, ভালো করেছেন।’ এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, ‘নেতাজির বিরুদ্ধে অবমাননাকর সোশ্যাল মিডিয়ার ২৮৭টি পোস্ট মুছে দেওয়া হয়েছে। ৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে পাঁচজন।’ অনন্ত মহারাজ ইস্যুতে সরব হয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যসভার সাংসদ হতে পারেন, কিন্তু তিনি বাঙালি পরিচয়ের ঊর্ধ্বে নন।’

    ‘স্পর্ধা’র সীমা অতিক্রম করা অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বিজেপির রাজ্যসভা সদস্যের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে এদিন কলকাতার এলগিন রোডে নেতাজি ভবনের সামনে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করে প্রদেশ কংগ্রেস। রাতভর এই কর্মসূচির পরিকল্পনা থাকলেও, পুলিশ অনুমতি দেয়নি। কর্মসূচি চলাকালীন গ্রেপ্তার করা হয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, দলের নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজনকে। এই ইস্যুতে এদিন শিলিগুড়িতে পোস্ট অফিস পার্কে গান্ধীমূর্তির সামনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে শামিল হন প্রবীণ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। অনন্ত মহারাজ ইস্যু এবং কলকাতার নিউ আলিপুরে নেতাজি মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে মিছিল করেছে এসইউসি’র ছাত্র-যুবরা। সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের কর্মী-সমর্থকরাও ভাঙা মূর্তির সামনে বিক্ষোভ দেখান। হাজির ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। নিউ আলিপুরে অবশ্য এদিন ওই জায়গাতেই নেতাজির একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এই আবহে অনন্ত মহারাজের কড়া শাস্তির দাবিতে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে অনশন শুরু করেছেন মুনমুন চক্রবর্তী নামে এক গৃহবধূ। লালবাজার সাইবার ক্রাইম শাখায় মমতাপন্থী তৃণমূলের আইটি সেলের তরফেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বিজেপির ওই রাজ্যসভা সাংসদের নামে।  

    গত ১৮ জুলাই এক সভামঞ্চ থেকে নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে অত্যন্ত অপমানজনক ও কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের নেতা অনন্ত মহারাজ। এরপরই তাঁর অনুগামীরা নেতাজির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে নেমে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সর্বস্তরের বাঙালিরা ক্ষোভ উগরে দেন। গত ৭ আগস্ট এই ঘটনায় থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি করেছিলেন কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পান্থশালা রোডের বাসিন্দা প্রবীণ ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মী গোপাল দে। এরপর এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী কড়া অবস্থান নিতেই তৎপর হয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার কেড়ে নেওয়া হয় অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান। এদিন সেই জেনারেল ডায়েরিকেই এফআইআর হিসেবে গণ্য করে মামলা (কোতোয়ালি থানা কেস নম্বর ৭৯২/২০২৬) শুরু করে কোচবিহার পুলিশ। অনন্তর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো, বিদ্বেষপূর্ণ ভাষণ, জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)