• শক্তিগড়ে বাবা-মেয়ের পর এবার উদ্ধার মায়ের দেহ, ঘনীভূত রহস্য
    বর্তমান | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাবা-মেয়ের পর এবার উদ্ধার হল মায়ের মৃতদেহ। বীরভূমের তারাপীঠ থানার লাহাগ্রামের একই পরিবারের তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও বাড়ল। মঙ্গলবার বাবা ক্ষুদিরাম মাল এবং মেয়ে টুম্পা মালের মৃতদেহ শক্তিগড়ের বণ্ডুল পঞ্চায়েতের কাষ্ঠকুম্ভ এলাকার মাঠ থেকে উদ্ধার হয়। ঘটনার দিন থেকে টুম্পার মা ভাদু মাল নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার হরিহরপুরচক এলাকায় ছোটো একটি নদী থেকে ভাদু মালের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। শরীরে পচন ধরে গিয়েছে। পরিবারের লোকজন মৃতদেহ চিহ্নিত করেন। তবে বাবা, মা এবং মেয়ের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেই রহস্য এখনো পুলিশ উন্মোচন করতে পারেনি। তবে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রির্পোটে জানানো হয়েছে, বাবা এবং মেয়ের পাকস্থলিতে বিষাক্ত রাসায়নিক পাওয়া গিয়েছে। সেই বিষক্রিয়াতে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে না অন্য কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ আগস্ট বাবা-মা এবং মেয়ে বর্ধমানে ডাক্তার দেখানোর জন্য বেরিয়েছিলেন। ক্ষুদিরামবাবু ব্যাংক থেকে তারজন্য টাকাও তুলেছিলেন। পরিবারের দাবি প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি মেয়ে টুম্পাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছিলেন। তবে, তাঁরা আদৌ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে ছিলেন কি না, তা পুলিশ জানতে পারেনি। এক আধিকারিক বলেন, ক্ষুদিরামবাবু ৩০ বছর আগে শক্তিগড়ের বণ্ডুল পঞ্চায়েত এলাকা঩তেই থাকতেন। পরে তিনি পরিবার নিয়ে বীরভূমের লাহাগ্রামে চলে যান। সেখানে চাষ করে সংসার চালাতেন। বর্ধমানে প্রায়ই মেয়ে এবং স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আসতেন। দু’জনেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসায় তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তারপরও কেন তাঁরা আত্মহত্যা করতে যাবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না পরিবারের লোকজনরা।

    তাঁদের এক আত্মীয় বলেন, তারাপীঠের লাহা থেকে শক্তিগড়ের দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। তাঁরা বাড়ি থেকে এত দূরে গিয়ে কেন আত্মহত্যা করতে যাবেন। তাছাড়া টুম্পার মৃতদেহে পোশাক ছিল না। পুলিশ নগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাঁর এই অবস্থা হল কীভাবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিষের বোতল উদ্ধার করতে পারেনি। তাছাড়া বিষপান করলে শরীরে বেশ কিছু নমুনা দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুখ থেকে গ্যাঁজালা বের হয়। এক্ষেত্রে তেমন কিছুই হয়নি। তাছাড়া তিনজনে বিষপান করে আত্মহত্যা করলে ভাদু মালের মৃতদেহ নদী থেকে কেন পাওয়া গেল সেই প্রশ্নেরও উত্তর তদন্তকারীরা খোঁজে পায়নি। 

    পুলিশ জানিয়েছে, এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে, চিকিৎসক ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানিয়েছে, দু’জনের শরীরে বিষাক্ত রাসায়নিকে নমুন ছিল। যদিও তার ভিত্তিতে কখনই বলা যাবে না তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন। আরও কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া মহিলার মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেটাও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের পর স্পষ্ট হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)