• বদলির পরও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ওএসডি কলেজের অধ্যক্ষা হিসাবে মাইনে তুলছেন! রাজ্য সরকারকে চিঠি খেজুরি কলেজ কর্তৃপক্ষের
    বর্তমান | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ২০২৫ সালের ৩ জুলাই খেজুরি কলেজের প্রিন্সিপাল শুভ্রমা গুপ্ত বদলি হয়ে চলে যান কলকাতার মতিঝিল কলেজে। সেই কলেজে প্রিন্সিপাল থাকার পরও খেজুরি কলেজ থেকে শুভ্রমাদেবীকে সেখানে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। একই কলেজে দু’জন প্রিন্সিপাল ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়। কয়েক মাস বাদে শুভ্রমাদেবীকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ওএসডি পদে বদলি করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হল, আজও শুভ্রমাদেবী খেজুরি কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবেই মাইনে তুলছেন। ডেপুটেশনে তিনি মতিঝিল কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ওএসডি হয়েছেন। অথচ, সরকারি খাতায় তিনি খেজুরি কলেজের অধ্যক্ষা। এক বছর ধরে কলেজের হেড থেকেই তাঁর মাইনে হচ্ছে। এর ফলে ওই কলেজে সরকারি খাতায় প্রিন্সিপাল পদ শূন্য দেখানো যাচ্ছে না। যেকারণে নতুন প্রিন্সিপাল যোগ দিতে পারছেন না। আর নতুন অধ্যক্ষ যোগ না দেওয়ায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এখনও ওই কলেজে কোনও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স চালু হয়নি। নেই ব্যাচেলার অব ভোকেশনাল কোর্সও।

    ২০২৩ সালে খেজুরি কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগ দেন শুভ্রমা গুপ্ত। ২০২৫ সালে তাঁকে ডেপুটেশনে মতিঝিল কলেজের অধ্যক্ষা হিসেবে পাঠায় উচ্চ শিক্ষাদপ্তর। অথচ, মতিঝিল কলেজে অধ্যক্ষ পদ ফাঁকা ছিল না। একই কলেজে দু’জন প্রিন্সিপাল ঘিরে বেশ জটিতলতা তৈরি হয়। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে। তারপর তাঁকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ওএসডি করা হয়। ডেপুটেশনে তিনি উচ্চশিক্ষা দপ্তরে কর্মরত হলেও তাঁকে খেজুরি কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবেই মাইনে দেওয়া হচ্ছে। 

    শুভ্রমাদেবী খেজুরি কলেজ ছেড়ে যাওয়ার পর ২০২৫সালে ৩জুলাই গৌতম দণ্ডপাট টিচার ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এখনও গৌতমবাবু ওই পদে আছেন। সম্প্রতি তিনি প্রিন্সিপাল পোস্টের জটিলতা নিয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে অধ্যক্ষ পদটি বাস্তবে শূন্য বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে শুভ্রমাদেবীর ডেপুটেশনে থাকার বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারিভাবে ওই পদকে শূন্য দেখিয়ে সেখানে অধ্যক্ষ নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে শুভ্রমাদেবীকে ফোন করা হলে তিনি উত্তর দেননি। মেসেজেরও জবাব মেলেনি।

    খেজুরি কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের কোনও কোর্স চালু নেই। অথচ গ্রামীণ এলাকায় অনেক কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্সে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্নাতকে ভোকেশনাল কোর্সও নেই। এধরনের কোর্স দ্রুত চালু করতে গেলে অধ্যক্ষ থাকা জরুরি। তাই কলেজের সার্বিক অগ্রগতির লক্ষ্যে অধ্যক্ষ পদে জট কাটিয়ে একজন অধ্যক্ষকে নিয়োগ করা দরকার। এবিষয়ে গৌতমবাবু বলেন, একবছর আগে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম চলে গিয়েছেন। যদিও সরকারিভাবে তিনিই কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে রয়েছেন। এর ফলে শূন্যপদ তৈরি করা যায়নি। নতুন প্রিন্সিপাল নিয়োগও হচ্ছে না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।
  • Link to this news (বর্তমান)