• টুলুর বিরুদ্ধে একের পর এক নতুন অভিযোগ, আদালতে জানাল পুলিশ
    বর্তমান | ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে জমা হচ্ছে অভিযোগের পাহাড়। একসময়ে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেনি। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর টুলুর অত্যাচারের শিকার মানুষরা একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। টুলুর দাপটে কেউ খুইয়েছেন সবটুকু, কেউ আবার বাড়ি-গাড়ি বিক্রি করে পথে বসেছেন। টুলু মণ্ডল ও তার দলবলের বিরুদ্ধে হুমকি, মারধর ও ভাঙচুরের মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিন পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন নতুন নতুন অভিযোগকারীরা। শুক্রবার সিউড়ি আদালতে শুনানিপর্বে নতুন অভিযোগের কথা তুলে ধরেন সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি, পলাতক টুলুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া হুলিয়া কার্যকর করতে প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ করেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্টও আদালতে জমা দেয় পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলুর বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় সিউড়ির এসিজেএম আদালত আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। কিন্তু গ্রেপ্তারি এড়াতে সে আত্মগোপন করে থাকায়, আদালত তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। সেই নির্দেশ মেনেই পুলিশ টুলুর আদি গ্রাম মহম্মদবাজারের সোঁতশাল ও সিউড়িতে মাইকিং করে, টুলু মণ্ডলের বাড়িতে নোটিস সাঁটায় এবং সংবাদপত্রেও ঘোষণা করে। এদিন সেই সমস্ত পদক্ষেপেরই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আদালতে পেশ করে পুলিশ।

    অন্যদিকে, এই দুর্নীতি মামলায় ধৃতদের থেকে বাজেয়াপ্ত নথিপত্র যাচাইয়েও গতি এনেছে পুলিশ। শান্তিনিকেতন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আমির সোহেল ওরফে রিপন মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রচুর নথি উদ্ধার হয়েছিল। এর মধ্যে বেশ কিছু হাতে লেখা নথিও রয়েছে। সেই হাতের লেখা মিলিয়ে দেখার জন্য হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, জেল হেফাজতে থাকা অপর অভিযুক্ত সীতেশ প্রামাণিকের থেকে উদ্ধার হওগা ডায়েরির হাতের লেখা সীতেশের নিজের কি না, তা হস্তলিপি বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পরীক্ষা করানোর আবেদনও জানিয়েছিল। আদালত সেই আবেদনে অনুমোদন দেওয়ায়, এদিন বিচারকের সামনেই সীতেশকে পেশ করে তার হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হয় বলে খবর।

    এদিকে, পুলিশি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়া টুলুর ম্যানেজার নইমুদ্দিন মণ্ডলের জামিন এদিন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। দিনকয়েক আগে অসুস্থতার কারণে তাকে সিউড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বর্ধমান হাসপাতালে রেফার করা হয়। এদিন বর্ধমান হাসপাতাল থেকেই ভিডিও কনফারেন্সে শুনানিতে অংশ নেয় নইমুদ্দিন। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর মক্কেলের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে জামিনের আবেদন জানান। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দেন।

    আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, বিচারক নইমুদ্দিনের জামিন খারিজ করেছেন, তবে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২১ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)