তৃণমূলকর্মী খুন: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন বাম বিধায়ক বেকসুর খালাস
বর্তমান | ১৬ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল কর্মী খুনে নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর প্রাক্তন সদস্য মনোরঞ্জন পাত্রকে বেকসুর খালাস করল কলকাতা হাইকোর্ট। বাম আমলে ২০১০ সালের ২৯ জুন তালডাংরার রাজপুর গ্রামের তৃণমূল কর্মী মদন খান খুন হয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। মৃতের ছেলে ইসমাইল খান তালডাংরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তৎকালীন সিপিএম বিধায়ক মনোরঞ্জন পাত্রের বিরুদ্ধে এই খুনের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়াও বাঁকুড়ার সিপিএম নেতা জিতেন পাত্র ও আজবাহার খানসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান মনোরঞ্জন সহ বাকি অভিযুক্তরা। কিন্তু এই খুনের ঘটনার এক দশকেরও বেশি সময় পরে ২০২২ সালে বিধাননগরের এমপি-এমএলএ আদালত মনোরঞ্জন পাত্র, জিতেন পাত্র ও আজবাহার খানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন মনোরঞ্জন এবং অন্য দুই সাজাপ্রাপ্ত সিপিএম নেতা। শেষপর্যন্ত হাইকোর্ট তিনজনকে ওই খুনের মামলায় বেকসুর খালাস করল। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি চলে। তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের বয়ানের উপর ভিত্তি করে আদালত শেষপর্যন্ত তিনজনকেই নির্দোষ ঘোষণা করল। তিনজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শোনার পর মনোরঞ্জন বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমরা বলেছি, মামলা মিথ্যা। আজ আদালতের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হল।’